গাদ্দাফির যে ছেলে ইতালির ফুটবল ক্লাবে খেলেছেন

আপডেট : ২৯ মে ২০২১, ২১:৫৯

লিবিয়ার স্বৈরশাসক কর্নেল গাদ্দাফির ছেলে আল সাদি গাদ্দাফির সঙ্গে চুক্তি করে সারা বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল ইতালির প্রথম সারির ফুটবল ক্লাব পেরুজা। ধারণা করা হয় যে ব্যাপক প্রচারণা পাওয়ার জন্যই পেরুজার মালিক লুচিয়ানো গাউচি এই চুক্তিটি করেছিলেন। ইতালীয় ফুটবল লিগ সেরেয়ার একটি মাত্র খেলায় তাকে নামানো হয়েছিল, তাও বদলি খেলোয়াড় হিসেবে। তবে খেলার চেয়েও তিনি বেশি আলোচিত হয়েছিলেন মাঠের বাইরে, বিশেষ করে তার প্লেবয় লাইফ-স্টাইল এবং লাগামহীন খরচ করার স্বভাবের কারণে।-বিবিসি

সময়টা ছিল ২০০৩ সালের গ্রীষ্মকাল। ইতালির প্রথম সারির ফুটবল ক্লাব পেরুজা মৌসুম শুরু হওয়ার আগে অনুশীলন ক্যাম্প শুরু করে। রেলিগেশন এড়ানোর জন্য কঠোর পরিশ্রম করছিল খেলোয়াড়রা। পেরুজার গোলরক্ষক ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার জোকো ক্যালাচ। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই খেলছিলাম টিকে থাকার জন্য। সিরি আতে টিকে থাকতে পারাটাই আমাদের জন্য ছিল লিগ শিরোপা জেতার মতো বিষয়।’

সে সময় পেরুজায় নতুন একজন ফুটবলার নেওয়া হয়। তার নাম সাদি আল গাদ্দাফি। আধুনিক ফুটবলের ইতিহাসে তাকে দলে নেওয়া ছিল অস্বাভাবিক এক ঘটনা। কারণ তার পিতা তেল সমৃদ্ধ দেশ লিবিয়ার স্বৈরশাসক মুয়াম্মার আল গাদ্দাফি। আল সাদি পরিচিত ছিলেন শুধু সাদি নামেই। ফুটবল খেলতে ভালোবাসতেন তিনি। ক্লাবে যোগ দেওয়ার অল্প কদিনের মধ্যে খেলোয়াড়রা জে বথরয়েডসহ সবার সঙ্গেই ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে পেরেছিলেন সাদি। জো বথরয়েড বলেন, ‘আমরা দুই জন ইংরেজিতে কথা বলতাম। তার পিতা লিবিয়ার লোকজনের প্রতি যা করেছেন তার জন্য আমি তার পিতাকে ক্ষমা করতে পারি না। তবে সাদি ছিল মৃদুভাষী। খুব শান্ত এবং উদার প্রকৃতির মানুষ।’ গোলকিপার জোকো ক্যালাচ বললেন,‘সাদি আল গাদ্দাফি খুব একটা ভালো ফুটবলার ছিলেন না। তবে নিজেকে উন্নত করার জন্য তিনি কঠোর পরিশ্রম করছিলেন। অনুশীলনের সময় আপনি যদি কারো সামনে পড়ে যান, আপনি হয়তো লাথি খেতে পারেন। তারপরেও আপনি খেলা চালিয়ে যাবেন। সাদিও এটা মেনে নিয়েছিল। অন্যরাও বোকা ছিল না। তারা জানতো যে তার দেহরক্ষীরা কার পার্কে বসে আছে। সাদি যে লিবিয়ার বাইরে—এটাই ছিল তার জন্য বড় ধরনের স্বাধীনতা। স্বাভাবিক মানুষের মতো জীবন-যাপন করতে পারছিল।’

সাদিকে নিয়ে খেলার মাঠে যতটা না আলোচনা ছিল, তার চেয়েও বেশি আলোচনা ছিল মাঠের বাইরে তার কর্মকাণ্ডের জন্য। আর সেটা ছিল তার বিলাস বহুল জীবন-যাপনের কারণে।

২০০৪ সালে পেরুজা যখন ইউভেন্টাসের মুখোমুখি হলো তখন সাদির জীবনে এলো বড় পরিবর্তন।পেরুজা ১-০ গোলে এগিয়ে গেল। তার পর ইউভেন্টাসের একজন খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখিয়ে বের করে দেওয়া হলো মাঠের বাইরে। আহত হলেন জে বথরয়েড। তখন সাদিকে মাঠে নামানোর দারুণ সুযোগ পেয়ে গেলেন পেরুজার ম্যানেজার। শেষ পর্যন্ত ঐ ম্যাচে তারা জয়ী হলো।

এটাই ছিল পেরুজার হয়ে সাদির একমাত্র ম্যাচ। তবে ক্লাবের অন্যান্য খেলোয়াড়ের জন্য ছিল একটা বোনাসের মতো। জে বথরয়েড বলেন, ‘কারো যখন খেলায় অভিষেক হয় তখন সে সবাইকে খাওয়াতে নিয়ে যায়। সাদির অভিষেক হওয়ার পর সে সবাইকে মার্সিডিজ গাড়ি কিনে দিতে চাইল।’সাদির পেশাদার ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়নি। কিন্তু তিনি ইতালির আরো কিছু ক্লাবেও গিয়েছিলেন। খেলতে পেরেছিলেন আরো একটি ম্যাচ। তার পর ২০০৭ সালে তিনি লিবিয়াতে ফিরে যান।

২০১১ সালে গাদ্দাফির পরিবারের ভাগ্য বদলে যেতে শুরু করে। আরব দেশগুলোতে আরব বসন্ত নামে যে আন্দোলন শুরু হয় তাতে গৃহযুদ্ধ বেঁধে যায় লিবিয়াতে এবং গাদ্দাফি সরকারের পতন ঘটে। এই পরিবারের ব্যাপক দুর্নীতি আর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা চলে আসে আন্তর্জাতিক আলোচনায়।