পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে হঠাত্ করেই বদলি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। তাকে আগামী মঙ্গলবার সকালে দিল্লির নর্থ ব্লকে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অথচ মাত্র চার দিন আগেই মুখ্য সচিবের মেয়াদ তিন মাস বাড়িয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। কেন্দ্রীয় সরকার তাতে অনুমোদনও দিয়েছিল। এরপরও শুক্রবার হঠাত্ করে মুখ্যসচিবকে বদলি করায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। গতকাল শনিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, ভোটে হেরে প্রতিহিংসার রাজনীতি করা হচ্ছে।
মমতা বলেন, আমরা বিশাল জয় পেয়েছি বলেই কি এমনটা করছেন! নির্বাচনে জিততে সবই করেছেন। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আমাকে ভোট দিয়েছেন। দয়া করে জনগণের রায় মেনে নিন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙে ফেলতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার। আমিও তো দিল্লি থেকে পশ্চিমবঙ্গের কর্মকর্তাদের ডেকে নিতে পারি। কেন্দ্র-রাজ্যের মধ্যে একটা সাংবিধানিক বোঝাপড়া থাকবে, সৌজন্য থাকবে। এটাই নিয়ম। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের ওপর এত রাগ কেন পা ধরলে যদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী খুশি হন তাহলে পশ্চিমবঙ্গের জন্য তাও করতে পারি। মমতা বলেন, পশ্চিমবঙ্গের ওপর আপনার এত রাগ কেন? আমরা বাঙালি-অবাঙালি করি না। মুখ্যসচিবের কী দোষ? তিনি বাঙালি বলে তার ওপর এত রাগ। তিনি আমার সঙ্গে কাজ করছেন। মুখ্যসচিব পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কর্মকর্তা। কোনো আলোচনা ছাড়াই রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানকে ডাকছেন! ৩১ মে কাজে যোগ দিতে বলছেন। কোভিড, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার জন্য তার মেয়াদ তিন মাসের জন্য বৃদ্ধি চেয়েছিলাম, অনুমোদনও দেওয়া হয়। তাহলে কোন আইনে যেতে বলছেন শুধু আমাকে নয়, মুখ্যসচিবকেও বিব্রত করছেন। মুখ্যমন্ত্রী, মুখ্যসচিবকে হেনস্থা করছেন।
মমতা বলেন, ‘মানুষই আমার অগ্রাধিকার। দয়া করে নোংরা খেলা খেলবেন না। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিবের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন। প্রতিহিংসা থামান। চিঠি প্রত্যাহার করুন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিবকে ঘূর্ণিঝড় ও কোভিড মোকাবিলায় কাজ করতে দিন।’
মমতা বলেন, ‘শুক্রবার কলাইকুন্ডায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হেলিকপ্টার নামবে বলে আমার হেলিকপ্টারটি ২০ মিনিট আকাশে চক্কর কাটে। নামতে দেওয়া হয়নি। নামার পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চাওয়ায় আমাদের ওখানে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, এখন কিছু হবে না। এক ঘণ্টা পরে বলুন। উল্লেখ্য, শুক্রবার অভিযোগ তোলা হয় মমতা ব্যানার্জি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ৩০ মিনিট বসিয়ে রেখেছিলেন।
এদিকে মুখ্যসচিবকে হঠাত্ বদলি করায় প্রতিবাদে সরব হয়েছে অন্যান্য রাজনৈতিক দলও। জাতীয় কংগ্রেস বলেছে, এভাবে দিল্লিতে বদলি করে দেওয়া আসলে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর মোদি সরকারের প্রাণঘাতী হামলা। এর ফলে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি হবে।
