শ্রমিকদের কোয়ারেন্টাইনে ২০-২৫ হাজার টাকা সহায়তা দেবে সরকার

আপডেট : ২৯ মে ২০২১, ২২:৪৮

টানা ৯ দিন স্থগিত থাকার পর সৌদি আরবে চালু হলো বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট। করোনা মহামারির কারণে গত ২০ মে থেকে বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকদের প্রবেশে সৌদি সরকারের নতুন কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করায় বন্ধ ছিল ফ্লাইট চলাচল।

গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ৩টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের দাম্মামের উদ্দেশে একটি ফ্লাইট ছেড়ে গেছে। সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় জেদ্দার উদ্দেশে দ্বিতীয় ফ্লাইট ছেড়েছে। রাত ৩টা ২০ মিনিটে রিয়াদের উদ্দেশে বিমানের তৃতীয় ফ্লাইট ছেড়ে যাওয়ার শিডিউল ছিল।

গত ২০ মে থেকে বাংলাদেশ থেকে প্রবাসী শ্রমিকদের প্রবেশে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করে সৌদি সরকার। সৌদি সরকারের নতুন বিধিনিষেধের মধ্যে রয়েছে— করোনার টিকা না নিয়ে সৌদি আরবে প্রবেশ করলে তাদের নিজ খরচে সাত দিন হোটেলে বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। যারা ফাইজার-বায়োএনটেক, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা, মডার্না এবং জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকার পূর্ণ ডোজ নিয়েছেন তারা হোটেলে বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকার বদলে বাসায় কোয়ারেন্টাইনে থাকার সুবিধা পাবেন। এক্ষেত্রে যারা পূর্ণ ডোজ টিকা নিয়েছেন তাদের টিকা নেওয়ার প্রমাণপত্র সঙ্গে রাখতে হবে। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পিসিআর পদ্ধতিতে পরীক্ষায় করোনা নেগেটিভ আসলেই কেবল যাত্রীরা ঢাকা থেকে সৌদি ফ্লাইটে উঠতে পারবেন। সৌদিতে পৌঁছানোর পর আরো দুবার করোনা পরীক্ষা করতে হবে। সৌদির এসব কড়াকড়ি নিয়মে অসহায় অবস্থায় পড়েন বাংলাদেশি শ্রমিকরা। প্রস্তুতি নিতে না পারায় গত ২০ মে থেকে সৌদিগামী সব ফ্লাইট স্থগিত করেছিল বিমান বাংলাদেশ।

কোয়ারেন্টাইনে ২০ থেকে ২৫ হাজার

 টাকা সহায়তা দেবে সরকার

সৌদি আরবগামী প্রবাসী শ্রমিকদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের হোটেল বুকিং খরচ বাবদ          ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এছাড়া বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন এড়াতে সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে যাওয়ার আগেই শ্রমিকদের করোনার ভ্যাকসিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে শনিবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন গণমাধ্যমকে জানান, সৌদি আরবে যাওয়ার পরে সাত দিন বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে কোনো প্রবাসী শ্রমিকের যদি হোটেল বুকিং খরচ হয় ৪০ হাজার টাকা, তাহলে মন্ত্রণালয় ২০ হাজার টাকা দেবে। ৫০ থেকে ৬০ হাজার বা তার ঊর্ধ্বে খরচ হলে ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হবে। আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে প্রায় ৪০ হাজার শ্রমিক সৌদি আরবে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, সৌদি আরবে যাওয়ার পরে একজন প্রবাসী শ্রমিকের হোটেল বুকিং করতে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা খরচ হবে।