অর্থনৈতিক উত্থানের প্রদর্শন করতে শুরু করেছে বাংলাদেশ :ভারতীয় গণমাধ্যম

আপডেট : ২৯ মে ২০২১, ২২:৪৯

করোনা মহামারির মধ্যে বাংলাদেশ ভারতে ওষুধ ও চিকিত্সাসামগ্রী পাঠিয়েছে। সংকটের সময় শ্রীলঙ্কার প্রতি আর্থিক সহায়তার হাত প্রসারিত করেছে। বলা চলে, অর্থনৈতিক উত্থানের প্রদর্শন করতে শুরু করেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করছে দেশটি। ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য প্রিন্টের এক প্রতিবেদনে এভাবেই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এ সপ্তাহের শুরুর দিকে মুদ্রা বিনিময় (কারেন্সি সোয়াপ) সহায়তা হিসেবে শ্রীলংকাকে ২০ কোটি ডলার দিতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ। এটি তাদের অর্থনীতিকে মজবুত করতে সহায়তা করবে। এমনকি কলম্বো যে বিশাল ঋণসংকটের মুখোমুখি হচ্ছে, তা মোকাবিলা করতে সক্ষম করবে। বর্তমানে প্রায় ৩৭০ কোটি মার্কিন ডলারের বৈদেশিক ঋণের মুখে পড়েছে শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশের এই সহায়তা তাদের অর্থনীতির জন্য ‘লাইফলাইন’ হিসেবে কাজ করতে পারে। সূত্র জানায়, গত মার্চে শ্রিলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষের ঢাকা সফরকালে বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ইস্টার বোমা হামলা এবং করোনা মহামারির কারণে শ্রীলঙ্কার পর্যটনশিল্প ও অন্যান্য খাতে ধস নেমেছে।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত ভারতে ৪০টি দেশ সহায়তা পাঠিয়েছে। এর মধ্যে দুইবার ত্রাণ পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। গত ৬ মে ভারতে ১০ হাজার রেমডিসিভির পাঠায় বাংলাদেশ। এরপর ১৮ মে দুই হাজার ৬৭২ বাক্স এন্টি ভাইরাল ড্রাগ ও করোনা সুরক্ষাসামগ্রী পাঠানো হয়।

গত এপ্রিলে ইউএস চেম্বার অব কমার্স ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের উদ্বোধন করেছে, যাতে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করা যায়। এছাড়া দ্বিমুখী বাণিজ্যও বেড়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসা করে বিশ্বব্যাংকের পাকিস্তান প্রোগ্রামের সাবেক উপদেষ্টা আবিদ হাসান বলেছেন, বর্তমান সরকারসহ পাকিস্তানের প্রতিটি সরকার ভিক্ষার থালা হাতে দুনিয়া ঘুরে বেড়িয়েছে এবং বেড়াচ্ছে। ২০২০ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি পাকিস্তানের দ্বিগুণ হয়েছে। অথচ ২০ বছর আগে এমনটা অচিন্তনীয় ছিল। যে গতিতে বাংলাদেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে ২০৩০ সালের মধ্যে বড় অর্থনৈতিক শক্তি হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে পাকিস্তানের অর্থনীতিতে দুরবস্থা চলতে থাকলে ২০৩০ সালে বাংলাদেশের কাছে সহায়তা চাইতে হতে পারে তাদের।

রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম ফর ডেভলপিং কান্ট্রিজ (আরআইএস)-এর প্রফেসর প্রবীর ডে বলছেন, এশিয়ায় নতুন রয়েল বেঙ্গল টাইগার হচ্ছে বাংলাদেশ। এর কারণ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। এছাড়া বাংলাদেশ ইউরোপের জিএসপি ও অন্যান্য বাণিজ্যিক সুবিধা পাচ্ছে।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সদস্য মিজানুর রহমান দ্য প্রিন্টকে বলেন, বাংলাদেশের বৈদেশিক রিজার্ভ ২০২১ সালে ৪৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ দায়িত্বশীলভাবে প্রতিবেশীদের পাশে দাঁড়াচ্ছে। যাদের সহায়তা প্রয়োজন, তাদের দিকে হাত প্রসারিত করছে। প্রবীর দের মতে, বাংলাদেশের এই অগ্রগতির কারণ হলো দেশজুড়ে একই ভাষার ব্যবহার এবং একটি সুগঠিত সরকারব্যবস্থা।