‘আমি মরিনি, বেঁচে আছি’

আপডেট : ২৯ মে ২০২১, ২২:৪৯

 ‘মানুষের দ্বারে দ্বারে ও উপজেলার বিভিন্ন দপ্তর থেকে দপ্তরে ঘুরে ঘুরে এত কচ্ছি যে, হ্যামি মরিনি, হ্যামি বাঁচাই আছি। কিন্তু কেউ হামার কতা শোনে না। সবাই কচ্ছে কাগজপত্রে তুমি মারা গেছ।’ বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার ৭৭ বছর বয়সি বৃদ্ধ মো. আব্দুস সাত্তার ফকির এভাবেই নিজের আক্ষেপের কথা বলছিলেন। আব্দুস সাত্তার জীবিত আছেন, কিন্তু ভোটার তালিকার ২০১৯ সালের হালনাগাদ তথ্যে তাকে দেখানো হয়েছে মৃত। আর ‘মরে যাওয়ার’ কারণেই হয়তো বন্ধ হয়ে গেছে তার বয়স্ক ভাতার টাকা। কিন্তু তিনি তো মরেননি, দিব্যি চলাফেরা করছেন। আব্দুস সাত্তার বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্গাপুর গ্রামের মৃত লিলচাঁন ফকিরের ছেলে।

জানা যায়, দিনমজুর আব্দুস সাত্তার ফকির বছরখানেক আগ পর্যন্ত বয়স্ক ভাতার টাকা পেয়ে আসছিলেন। কিন্তু হঠাত্ বন্ধ হয়ে যায় তার বয়স্ক ভাতা। এরপর তিনি     প্রথমে ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ভাতার বিষয়ে খোঁজ নিতে যান। সেখানে তার নামধাম না থাকায় স্থানীয় উপজেলা নির্বাচন অফিসে যান তিনি। সেখানে গিয়ে আব্দুস সাত্তার ফকির জানতে পারেন, কাগজপত্রে তাকে ‘মৃত’ দেখানো হয়েছে।

আব্দুস সাত্তার জানান, আমি একজন দিনমজুর। সামান্য এক টুকরা জমিতে ঘর করে বসবাস করছি। এক ছেলে ও চার মেয়ের সংসার তার। তিন-চার বছর আগে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারের পেছনে ঘুরে ঘুরে তিনি বয়স্ক ভাতার কার্ড পেয়েছিলেন। তিন-চার দফা বয়স্ক ভাতার টাকাও পেয়েছেন তিনি। কিন্তু বিপত্তি ঘটে বছরখানেক আগে। হঠাত্ ভাতার টাকা বন্ধ হয়ে যায়। সরকারের বিনা মূল্যে করোনা টিকা প্রদান কর্মসূচির সুফলও নিতে পারেননি তিনি। খুব আগ্রহ নিয়ে টিকার প্রথম ডোজ নিতে একাধিকবার তথ্য আপলোডের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তিনি। পরবর্তী সময়ে আদমদীঘি উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর দিলে তাকে জানানো হয়, তিনি ‘মৃত’। শেষ পর্যন্ত নানা প্রমাণ দেওয়ার পর তাকে আবেদন করতে বলা হয়। সে অনুযায়ী কাগজপত্র সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে আবেদন করেন তিনি।

বিষয়টি স্বীকার করে উপজেলা নির্বাচন অফিসার আব্দুর রশিদ বলেন, ‘এটি কাজের ভুল। তথ্য সংগ্রহকারীরা ভুলক্রমে জীবিত আব্দুস সাত্তার ফকিরকে ভোটার তালিকায় এন্ট্রি করার সময় মৃত দেখিয়েছেন। বিষয়টি জানার পর এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।’