কোভিড-১৯ মহামারি দেশের প্রান্তিক এবং অসহায় জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের অসহায়ত্বকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে তাদেরকে আরো বিস্তৃত ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে বলে এক গবেষণায় জানা গেছে।
গবেষণায় বলা হয়—লকডাউনের কারণে এ সময়ে নারীর প্রতি সহিংসতা বিশেষ করে পারিবারিক সহিংসতার মাত্রা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে এ সময়ে বিচারসংশ্লিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধার সীমাবদ্ধতা, গণপরিবহন বন্ধ থাকায় নারীর সীমিত গতিবিধির কারণে সাহায্য চাইতে না পারা, লকডাউন বাস্তবায়ন এবং ত্রাণ বিতরণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের ব্যস্ততার কারণে ন্যায়বিচার পাচ্ছেন না নারীরা। সহিংসতার শিকার নারীদের সাহায্য আবেদনে দ্রুত সাড়া মিলছে না। এছাড়া আইনগত সহায়তা প্রদানকারী এনজিওসমূহের সীমিত কার্যক্রমের কারণেও নারীদের ন্যায়বিচার লাভে নানা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে।
জার্মান ফেডারেল মিনিস্ট্রি ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিএমজেড) এবং যুক্তরাজ্য সরকারের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের (এফসিডিও) সহায়তায় বাস্তবায়িত জিআইজেডের রুল অব ল প্রোগ্রাম এবং ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) ‘এক্সসেস টু জাস্টিস ফর সারভাইভারস অব ডমেস্টিক ভায়োলেন্স ডিউরিং কোভিড-১৯’ শীর্ষক এই গবেষণা রিপোর্টটি প্রকাশ করে। এই গবেষণা সম্পাদনে সহযোগিতা করেছে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), ব্র্যাক হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস (এইচআরএলএস) এবং আরডিআরএস বাংলাদেশ।
এই গবেষণা রিপোর্ট প্রকাশ উপলক্ষ্যে গতকাল শনিবার রুল অব ল প্রোগ্রাম এবং বিআইজিডি কর্তৃক যৌথভাবে আয়োজিত ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের সাবেক বিচারপতি জিনাত আরা। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড জাস্টিস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার মনজুর হাসানের সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেনহোল্টজ, এফসিডিও বাংলাদেশের ডেভেলপমেন্ট ডাইরেক্টর জুডিথ হারবার্টসন, আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্মসচিব ও জিআইজেড সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের জাতীয় প্রকল্প পরিচালক উম্মে কুলসুম, জিআইজেড রুল অব ল প্রোগ্রামের প্রধান প্রমিতা সেনগুপ্ত এবং বিআইজিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ইমরান মতিন।
