উত্তর পশ্চিমের ভারতীয় সীমান্তবর্তী জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ এখন করোনার হটস্পট। এ জেলায় করোনার ভারতীয় ধরন শনাক্তের পর চলছে সাত দিনের বিশেষ লকডাউন। এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিশেষ লকডাউন ঘোষণার পরও রাজশাহী ও নওগাঁ হয়ে নাটোরসহ বিভিন্ন স্থানে চলে যাচ্ছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষ। এতে করোনার উচ্চ ঝুঁকিতে পড়েছে রাজশাহী, নওগাঁ ও নাটোর। বর্তমানে এসব জেলায়ও করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। পুরাতন রাজশাহীর এই চার জেলায় করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণে উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. এ বি এম আবু হানিফ বলেন, দুই সপ্তাহ আগে নওগাঁয় সংক্রমণের হার খুব কম ছিল। দুই সপ্তাহ আগে সংক্রমণের হার সর্বোচ্চ ১৮ থেকে ১৯ শতাংশ ছিল। এখন সংক্রমণ বেড়ে ৫০ শতাংশ হয়েছে। যা খুবই উদ্বেগের। তিনি বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সঙ্গে নওগাঁর যোগাযোগের ফিডার সড়কগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। কিন্তু রাজশাহীর সঙ্গে চালু রয়েছে। ফলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষ রাজশাহী হয়ে নওগাঁয় যাতায়াত করায় রাজশাহী ও নওগাঁয় সংক্রমণ ছড়াচ্ছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের হিসাবে বিভাগের আট জেলায় গত ১৪ মে করোনার সংক্রমণ হয়েছিল ৪৩ জনের। এরপর থেকে ধীরে ধীরে সংক্রমণ বাড়ছে। শুক্রবার বিভাগের আট জেলায় ২৭৬ জনের করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহীতে ২২৩ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৯, নাটোরে ৪৪, নওগাঁয় ২৬, জয়পুরহাটে ১৮, বগুড়ায় ১৭, সিরাজগঞ্জে ৭ ও পাবনায় ১১ জন।
এদিকে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় বেশি নমুনা পরীক্ষায় জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের (রামেক) অধ্যক্ষ ডা. নওশাদ আলী বলেন, করোনার সংক্রমণ বাড়লে যতটা সম্ভব বেশি নমুনা পরীক্ষা করে আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা করতে হবে। না হলে আক্রান্ত ব্যক্তি আরও অনেকের মধ্যে ছড়িয়ে দেবেন। তবে করোনার নমুনা পরীক্ষার চাপ বাড়লেও সব জেলার নমুনা পরীক্ষা সব দিন হচ্ছে না। করোনার সংক্রমণ বেশি থাকলেও বৃহস্পতিবার (২৭ মে) চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাত্র একটি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের (রামেক) ল্যাবে। সেটি অবশ্য করোনা নেগেটিভ পাওয়া গেছে।
এদিন নওগাঁ ও নাটোরের নমুনা পরীক্ষা করতে গিয়ে চাঁপাইয়ের নমুনা নেওয়া সম্ভব হয়নি। দুটি ল্যাবে রাজশাহীর ২১৭টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে ১০০টি। শনাক্তের গড় হার ৪৬ দশমিক ০৮ শতাংশ। অন্যদিকে নাটোরের ৭৭টি নমুনার মধ্যে ৩২টিতে করোনার উপস্থিতি মিলেছে। এই জেলায় সংক্রমণের হার ৪১ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এছাড়া নওগাঁর ৪৫টি নমুনার মধ্যে ২৩টিতেই করোনা শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষার বিপরীতে এখানে সংক্রমণের হার ৫১ দশমিক ১১ শতাংশ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জেলার সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী বলেন, এক সপ্তাহের লকডাউন দেওয়ার পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার এ জেলার নমুনা পরীক্ষা করা হয়নি। তাই প্রকৃত চিত্রটা আসেনি। নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. কাজী মিজানুর রহমান বলেন, আমরা তো ভালোই ছিলাম। এখন আবার বাড়ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী হয়ে এখানে করোনার নতুন ধাক্কা লাগছে বলে মনে হচ্ছে।
রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. কাইয়ুম তালুকদার বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ লকডাউন দেওয়ায় অনেকটাই লাভ হয়েছে। তবে রাজশাহী লকডাউন হলে আরও ভালো হতো। প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। প্রয়োজনে রাজশাহীতেও লকডাউন আসতে পারে। সম্মিলিত আলোচনায় লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
ইত্তেফাক/এমআর
