ঐতিহ্য

মাটির ঘর

আপডেট : ৩০ মে ২০২১, ২০:০১

 

গ্রামবাংলার ঐতিহ্য। চারপাশে মাটির দেয়াল ও ওপরে টিনের বা ছনের ছাউনি। অত্যধিক শীতে মাটির ঘরে তুলনামূলক উষ্ণতা ও গরমকালে স্বাভাবিক পরিবেশ বিরাজ করে। একসময় গ্রামবাংলার প্রতিটি ঘরই ছিল মাটির। এখন সেগুলোর অধিকাংশই ইট-সিমেন্টের বাড়ি। আর যাঁরা পাকা বাড়ি করতে পারছেন না তাঁরা তৈরি করছেন টিনের ঘর। তবে এখনো কিছু জায়গায় মাটির ঘর আছে ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে। রূপগঞ্জ উপজেলার ভূলতা ইউনিয়নের পাচাইখাঁ এলাকায় রয়েছে কিছু মাটির ঘর। একচালা ঘর চারদিক দেয়াল ওপরে টিনের ছাউনি। বাড়ির বর্তমান মালিকের নাম মোখলেস মিয়া। তাঁর পিতা মৃত লাল মিয়া বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন।

এই বাড়ির বাসিন্দা শাহিন মিয়া জানান, পৈতৃক সম্পত্তি থেকে পাওয়া মাটির ঘর ইট-পাথরের দালানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে টিকে আছে। পানির সঙ্গে মাটির প্রলেপ মিশিয়ে লেপে নিলেই কোনো ফাটল দেখা যায় না। কোনো কোনো সময় অতিবৃষ্টি কিংবা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঘরগুলো বেশি নষ্ট বা ফেটে গেলে সিমেন্ট দিয়েও লেপে দেন অনেকে।

একসময় মাটির ঘর তৈরি করতেন চান্দিনা উপজেলার কৈলাইন গ্রামের চৌধুরী বাড়ির হাসেম মোল্লা (৭৫)। তিনি বলেন, যাঁরা মাটির ঘর নির্মাণের কাজ করেন তাঁরা ‘দেল বারুই’ নামে পরিচিত। সচরাচর এঁটেল মাটি দিয়ে এসব ঘর তৈরি করা হতো। পরিচ্ছন্ন মাটির সঙ্গে পানি মিশিয়ে কাদায় পরিণত করে ইটের মতো সারি সারি করে ২০-৩০ ইঞ্চি চওড়া দেয়াল তৈরি করা হয়। প্রতিবারে এক-দেড় ফুট উঁচু করে শুকানোর পর খড় বা টিন দিয়ে ছাউনি দেওয়া হতো। প্রতিটি ঘর তৈরিতে দেড়-দুই মাস সময় লাগত। তবে মুষলধারের বৃষ্টি কিংবা ১৯৮৮ অথবা ১৯৯৮-এর মতো বড় বড় বন্যায় ঘরের স্বাভাবিক কাঠামো নষ্ট হওয়ায় লোকজন মাটির ঘর তৈরিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।

তবে এখনো কিছু বাড়ি দেখা যায়। যেমন নওগাঁর ১০৮ কক্ষের মাটির প্রাসাদ। মহাদেবপুর উপজেলার চেরাগপুর ইউনিয়নের আলিপুর গ্রামে ৩৩ বছর ধরে টিকে আছে বাড়িটি। এছাড়াও বগুড়ার নন্দীগ্রামে ১২ শতক জমির ওপর তিনতলা মাটির ঘর বেশ দর্শনীয়। এছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রাম, রাজশাহীর তানরের দ্বিতল বাড়ি, নাটোরের সিংড়া উপজেলার মাটির তৈরি বিদ্যালয়, সাভার, নারায়ণগঞ্জের মহজমপুর, ললাটি, নানাখি, আড়াইহাজার থানার কালীবাড়ি, নরসিংদীর মাধবদী, গাউছিয়া, যশোরের মনিরামপুর গ্রামে দ্বিতল লাল মাটির ঘর পূর্ব পুরুষদের স্মৃতি বহন করছে।

মামুনূর রহমান হূদয়