ছাতকে দেশি জাতের লিচুর ফলন ভালো

আপডেট : ৩০ মে ২০২১, ২১:২১

ছাতক (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা

ছাতকে বাগানের গাছে গাছে ঝুলছে রসালো ফল লিচু। চলতি মৌসুমে এ অঞ্চলে লিচুর ভালো ফলন হয়েছে। তবে করোনার কারণে লিচু দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হাটে পাঠানো হয়নি। এ কারণে ছাতক-দোয়ারাবাজারের সব হাট-বাজারে এ অঞ্চলের উত্পাদিত লিচু বিক্রি করছেন চাষিরা।

উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের মানিকপুর, গোদাবাড়ী, চানপুর, বড়গল্লা, কচুদাইড়, রাজারগাঁও এবং দোয়ারাবাজার উপজেলা সদর ইউনিয়নের লামাসানিয়া, পরমেশ্বরীপুর, বীরসিংহপুর, সুরমা ইউনিয়নের টেংরাটিলা ও আলীপুরসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে লিচু চাষ করা হয়। লিচুচাষি মানিকপুর গ্রামের আরব আলী, গোদাবাড়ী গ্রামের আবদুল কাদির, রাজারগাঁও গ্রামের আবদুল মালিক, চানপুর গ্রামের আনোয়ার মিয়া ও লামাসানিয়া গ্রামের হেলাল উদ্দিন জানান, লাভজনক লিচু চাষে জড়িয়ে এখানের শতাধিক চাষি এখন স্বাবলম্বী। লিচুর ভালো বাজারমূল্য রয়েছে এখানে। চলতি মৌসুমে লিচুর ফলন আশানুরূপ হয়েছে বলে জানান তারা।

সরজমিন দেখা গেছে, ছাতক শহর থেকে সুরমা নদী পাড়ি দিয়ে ৩ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে চৌমুহনী বাজার ও লিচুর গ্রাম হিসেবে পরিচিত মানিকপুর। একটু এগোলেই দোয়ারাবাজারের লামাসানিয়া গ্রাম। এসব গ্রামের প্রতিটি বাড়িতেই রয়েছে লিচু গাছ। বাণিজ্যিকভাবে লিচু চাষ করেছে এলাকার শতাধিক পরিবার। এখন ছাতক-দোয়ারাবাজারের বিভিন্ন গ্রামে লিচুবাগানের গাছে গাছে ঝুলছে দেশি জাতের রসালো লিচু; যা দেখলেই চোখ জুড়িয়ে যায়। এখানকার লিচুবাগান দেখতে প্রায়ই দর্শনার্থীদের ভিড় জমে।

দোয়ারাবাজার উপজেলা সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবদুল হামিদ জানান, তার নিজের বাড়িতেও লিচু বাগান রয়েছে। ছাতকে থাকাকালে লিচু চাষে এলাকার মানুষকে উদ্যোগী করেছেন তিনি। লিচু চাষের জন্য এ অঞ্চলের মাটি উপযুক্ত হওয়ায় তিনি সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকসহ কৃষি বিভাগের সঙ্গে কথা বলে চাষিদের সহযোগিতা করেছেন। তিনি বলেন, আগে অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে চাষিরা লিচু নিয়ে বাজারে আসতে পারত না। এখন যোগাযোগ ব্যবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। চাষিরা বিভিন্ন হাটে এনে লিচু বিক্রি করতে পারছেন। ছাতক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক হোসেন খান ও দোয়ারাবাজার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহসিন জানান, চলতি মৌসুমে এ অঞ্চলে লিচুর ভালো ফলন হয়েছে। আর চাষিরাও ভালো বাজারমূল্য পাচ্ছেন।