বাজেটে কোভিড ব্যবস্থাপনা নিয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনার দাবি

আপডেট : ৩০ মে ২০২১, ২১:২৮

ইত্তেফাক রিপোর্ট

আসছে বাজেটে কোভিড ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রাখার প্রস্তাব দিয়েছে সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম)। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখ করেছে, নিম্ন আয়ের মানুষ করোনাকালীন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের অবস্থার পরিবর্তনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সমাধান দরকার। যত দ্রুত সম্ভব তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।

গতকাল রবিবার ‘বাজেট ২০২১-২২ : বাস্তবতা ও প্রত্যাশা’ শিরোনামে ওয়েবিনারের আয়োজন করা হয়। আসছে বাজেট নিয়ে নানা প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়। ওয়েবিনারে সানেমের গবেষণা পরিচালক ড. সায়মা হক বিদিশা আগামী বাজেটের প্রত্যাশা নিয়ে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন। ওয়েবিনারে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এবং সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান। ড. সায়মা হক বিদিশা তার আলোচনায় বলেন, ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট করোনাকালীন দ্বিতীয় বাজেট হওয়ার কারণে স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ আরো কিছু বিষয়কে অধিক গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তাছাড়া, করোনাকালীন প্রেক্ষাপটে গুরুত্বের বিষয়গুলো ভিন্নতা পাবে, সেক্ষেত্রেও আমাদের নজর দিতে হবে।

ড. সেলিম রায়হান বলেন, বাস্তবতা বিবেচনায় বাজেট নিয়ে বড় ধরনের কোনো প্রত্যাশা নেই। আমরা চাই আগামী বাজেটে যে বিষয়গুলো অত্যন্ত জরুরি সেগুলো যাতে অন্ততপক্ষে স্বীকার করা হয়। আমার প্রত্যাশা থাকবে অর্থমন্ত্রী যখন জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতা দিবেন, সেখানে যেন বর্তমান বাস্তবতাকে সঠিকভাবে স্বীকার করে নেওয়া হয়। বর্তমানে কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে বিভিন্নভাবে আমরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি, এজন্য কোভিডের কারণে স্বাস্থ্য খাত, শিক্ষা খাত, দারিদ্র্য, জেন্ডার বৈষম্য, কর্মসংস্থান ইত্যাদির ওপর যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, আগামী বাজেটে তা স্বীকার করা হবে, আমরা এমনটা প্রত্যাশা করি। আমাদের আরেকটি প্রত্যাশাও ছিল, করোনাকালীন সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষ করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো সঠিক তথ্য উপাত্ত সরবরাহ করবে। কারণ যদি সঠিক তথ্য উপাত্ত না থাকে তাহলে এরকম একটি সংকটকালীন সঠিক নীতি নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে যাদের এ তথ্য উপাত্তগুলো সঠিকভাবে তুলে ধরার কথা, তারা তা করেননি।

কোভিডের কারণে স্বাস্থ্য খাতে যে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং বিগত এক বছরে এই ঝুঁকি মোকাবিলায় বারবার যে ধাক্কা এসেছে, আগামী বাজেটে তা অনুধাবন করে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে, যাতে অতীতের ভুলগুলোর পুনরাবৃত্তি না হয়। এখন অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু আমরা যদি ব্যাংক ঋণের চিত্র দেখি তাহলে দেখব যে প্রণোদনা প্যাকেজের বাইরে ব্যক্তি খাতে তেমন কোনো ঋণ যাচ্ছে না। আমাদের মোট বিনিয়োগের প্রায় ৮০ শতাংশ বিনিয়োগই আসে ব্যক্তি খাত থেকে, সুতরাং এই খাতের বিনিয়োগ প্রবাহ ঠিকমতো গতিশীল না থাকলে প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও প্রবৃদ্ধি কোনোভাবেই সম্ভব নয়। অর্থনৈতিক ও সামাজিক পুনরুদ্ধারের জন্য আমাদের একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা দরকার, একটি রোডম্যাপ দরকার। সেটি কিন্তু আমরা এখনো পাইনি।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতের সংকট আমরা একেবারে সরাসরি দেখতে পাচ্ছি, বাজেট বাড়ানোর পরেও সেটি খরচ করা যায় না, স্বাস্থ্য খাতের সামর্থ্য বাড়ে না, বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতি দূর হয় না। সবকিছু মিলিয়ে আমাদের একটি বড় দাবি, স্বাস্থ্য খাতসহ অন্যান্য খাতে যতটুকুই সম্ভব সংস্কারের একটি রূপরেখা বাজেট ঘোষণায় থাকবে। গত পাঁচ দশকে দারিদ্র্য বিমোচনে আমাদের যে সাফল্য, করোনার ধাক্কায় তা কিন্তু এখন টলমান। করোনার সময়ে আমাদের ‘জবলেস গ্রোথ’ এর বিষয়টি আরো তীব্র হয়েছে। ডিজিটাল ডিভাইডের মতো নতুন বৈষম্য আমাদের সৃষ্টি হয়েছে। এগুলোকে যদি আমরা সামনে না আনি, আমরা যদি শুধু একমাত্র প্রবৃদ্ধির রঙিন চশমা দিয়ে সবকিছু  দেখি তাহলে কিন্তু আমরা প্রবৃদ্ধির ধূম্রজালে হারিয়ে যাব।

বাজেটে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ থাকা উচিত নয়—উল্লেখ করে সেলিম রায়হান বলেন, বিষয়টি সংবিধান পরিপন্থি। এতে সত্ করদাতাদের নিরুত্সাহিত করা হচ্ছে এবং আমরা যে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ চাই, কালোটাকা সাদা করার বিধান তার পরিপন্থি।