তানজির তুহিন। এদেশে সব ব্যান্ড তারকাদের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য তৈরি হয় না। তুহিন তেমনই একটি নাম। যার গানের কথা, গায়কীতে তারুণ্যের ভেতরে যেমন মুগ্ধতা ছড়ান তেমনি মেসেজ দেওয়ার চেষ্টা করেন। কথা বলেছেন নিজের ক্যারিয়ার, ব্যান্ড আভাসসহ সাম্প্রতিক কাজ নিয়ে বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল
‘আভাস’-এর বর্তমান অবস্থা নিয়ে জানতে চাই—
সম্প্রতি ‘অনাথ’ শিরোনামে আভাসের চতুর্থ গান প্রকাশ পেয়েছে। এছাড়া ১০টি গান নিয়ে একটি অ্যালবামের কাজ চলছে। টিন প্লাটফর্ম থেকে ১৫টি গান আমরা পেয়েছি, সেখান থেকে ১০টি গান নিয়ে অ্যালবামটি করবো।
তুহিন বরারবই ভিনধর্মী কিছু মিউজিক ভিডিও দর্শক-শ্রোতাদের উপহার দিয়ে থাকে। নতুন কী চমক আসছে?
গানে যে মিউজিক ভিডিও লাগবে এই চর্চা কিন্তু আগে ছিল না। গান শোনার জিনিস, দেখার জিনিস না। কিন্তু এখন শোনার সঙ্গে মানুষের দেখার প্রবণতায় এটা করতে হচ্ছে। তবে এই ১০টা গানে হয়তো একটি অ্যানিমেশন ভিডিও এবং বাকিগুলো লিরিক্যাল ভিডিও আকারে প্রকাশ করবো।
অনেকেই বলেন মিউজিক ভিডিও একটি গানের জন্য অপ্রয়োজনীয়। এতে মান ঠিক থাকছে না। আপনি বিষয়টি কীভাবে দেখেন?
আগে কিন্তু লাইভ পারফর্ম ও অডিও আকারেই গান চলতো। আসলে ভালো গানের ভিডিও লাগে না। একটি ভালো গানের জন্য সময়ের চাহিদায় একটি লিরিক্যাল ভিডিও যথেষ্ট।
করোনার এই দুঃসময়ের ব্যান্ড শোগুলো বন্ধই বলা যায়। এই সময়টা ব্যান্ড তারকারা কীভাবে পার করছেন?
এই সময়ে অনেকেই ঘরে বসে কাজ করছেন। আবার অনেকেই অপেক্ষায় রয়েছেন অবস্থা পরিবর্তনের। আসলে গান করে যারা জীবিকা চালায় তাদের জন্য সময়টা অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে।
শোনা যায়, রক ব্যান্ডের সময় এখন অনুকূলে নেই। আপনি এর সঙ্গে একমত কি-না?
একবার যখন রক ব্যান্ড শুরু হয়েছে তখন টিকে থাকবেই। করোনার কারণে সব বন্ধ বলে এখন আওয়াজটা কম পাওয়া যাচ্ছে। নতুন মাধ্যম ইউটিউবে নিজেদের মেলে ধরতে সময় লাগছে। বলতে পারেন, ভালো কাজের অভাবের কারণে চটকদার কাজগুলো প্রচার পাচ্ছে।
এমন অবস্থা দেখে নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা ব্যান্ড সংগীতের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে বলে মনে করেন না?
না, আমার সেটা মনে হয় না। কারণ এখন নতুন প্রজন্মের অনেকেই অনেক ভালো কাজ করছেন। আগেও যেমন তাদের রক ব্যান্ডের প্রতি আগ্রহ ছিল, এখনো আছে। সংকট আসবেই এবং এটাকে অতিক্রম করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। তবে নতুনদের মিডিয়া একটু প্রমোট করলে রক ব্যান্ড আরো এগিয়ে যাবে।
এখন শিল্পীরা এককভাবে গান প্রকাশ করছেন। বড় কোনো লেভেল কোম্পানি আপনাদের গান পায় না। এর কারণ কী?
শিল্পীরা নিজেদের চ্যানেলে গান প্রকাশ করতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। কারণ সস্তায় যদি একটি জিনিস পাওয়া যায় তাহলে নিজের কাজ অন্যকে ব্যবসা করতে দেবে কেন! আমরাও সেই পথেই হাঁটছি। সব ব্যান্ডেরই নিজেদের চ্যানেল রয়েছে। তাছাড়া লেভেল কোম্পানিগুলো ভালো কাজের চেয়ে চটকদার কাজকে প্রমোট বেশি করে থাকে।
এখন ভিউ গুনে শিল্পী ও গানের মান বিচারের চর্চা চলছে। বিষয়টি আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
ভিউ বাড়ুক, কিন্তু টিকতে হবে। না টিকলে ধারাবাহিক শিল্পীর জন্য খুব খারাপ। তবে ভালো গান টিকতে সময় লাগে। আমাদের শিক্ষিত শ্রোতার অভাব রয়েছে। যে কারণে মানহীন কাজের ভিউ বেশি হয়।
এই মানহীন, কাব্য মূল্য না থাকা গানগুলো আপনাদের মতো গীতিকার-শিল্পীর জন্য লজ্জার কারণ হয় কি-না?
না, লজ্জা কেন পাবো। যেখানে শ্রোতা বা দেশ লজ্জা পায় না, সেখানে আমরা কেন লজ্জা পাবো! এ ধরনের গান থাকবেই, কিন্তু সেটাকে গ্রহণ করার আগে একটু ভাবতে হবে।
আপনারা যখন নিয়মিত কাজ করেছেন তখন একের পর এক গান শ্রোতাপ্রিয়তা পেত। কিন্তু বর্তমান সময়ের গান সেই প্রভাব ফেলতে পারছে না কেন?
‘চটকদার’ গানগুলো থেকে যত তাড়াতাড়ি আমরা বেরিয়ে পরিশীলিত জায়গায় ফিরবো তত দ্রুত ভালো ভালো গান জনপ্রিয়তা পাবে।
গানের রয়ালিটি নিয়ে অভিযোগ বরাবরই ছিল। আপনিও এ নিয়ে কথা বলেছেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিষয়টি নিয়ে কী মন্তব্য করবেন?
আমরা আসলে ব্রিটিশ নিয়মে চলছি, তাই নিজেদের নিয়ম তৈরি করতে পারিনি। আগে তো যারা গান লিখতো তারাই সিংহভাগ নিয়ে যেত। তবে আমার মনে হয় গীতিকার, সুরকার ও শিল্পীর সমান অবদানেই একটি গান প্রাণ পায়। তাই সকলেরই সমান অধিকার থাকা উচিত।
আপনার ক্যারিয়ার শুরুর সময় থেকে বর্তমান সংগীত ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
এখন তো সব জায়গার অবস্থাই ভালো না শুনতে পাই। তবে দেশের মানুষ যদি ভালো হয়, শিক্ষিত মানুষ যদি বাড়ে, ভালো কাজ, ভালো গান যদি আরো বৃদ্ধি পায়, তবে আবার ইন্ডাস্ট্রি সোনালি যুগে ফিরে যাবে। না হলে রূপালি থেকে তামা, তামা থেকে লোহা এবং শেষে ছাঁই হয়ে যাবে।
