শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাত্

তিন প্রতারক গ্রেফতার

আপডেট : ৩০ মে ২০২১, ২১:৪৪

দেশের প্রায় দেড় কোটি শিক্ষার্থীর মায়ের মোবাইল ফোনে উপবৃত্তির টাকা বিতরণ করেছে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’। এই উপবৃত্তির টাকা হাতিয়ে নিতে শুরু থেকেই প্রতারণার ফাঁদ পেতেছিল একটি চক্র। কয়েক জন সহজসরল গ্রাহকের পিন ও ওটিপি কৌশলে নিয়ে কিছু টাকা হাতিয়েও নিয়েছিল এই চক্রটি। গত এপ্রিলের শুরুতে বিষয়টি ধরতে পেরে থানায় মামলা করে নগদ। সেই অভিযোগের তদন্তে নেমে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে তিন জন প্রতারককে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেফতার তিন জন হলেন—রংপুরের মিঠাপুকুরের মো. আসাদুল ও আবু বক্কর সিদ্দিক এবং নরসিংদী সদরের খবিরুল ইসলাম।

জানা গেছে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় মার্চের শুরুতে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির ৪৫০ টাকা করে অভিভাবকদের মোবাইল ফোনে পাঠানো হয়। টাকা পাঠানোর পরে নগদ কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের মেসেজ পাঠায়। এরপর ফোন করে প্রত্যেক অভিভাবকদের মোবাইল নম্বরে নগদ অ্যাকাউন্ট চালু করতে ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি)               সেট করতে বলা হয়। অ্যাকাউন্ট চালু হলে অভিভাবকরা টাকা তুলতে পারে। কিন্তু টাকা মোবাইল ফোনে পৌঁছানোর পর থেকেই প্রতারকদের একটি চক্র শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রধান শিক্ষক পরিচয় দিয়ে টাকা কম দেওয়া হয়েছে বলে জানায়। এ সময় বেশি টাকা পাঠানো হবে বলে ওটিপি চাইলে অনেক অভিভাবক তা প্রতারকদের দেয়। এক পর্যায়ে দেখে একাউন্টে টাকা নেই।

বিষয়টি নজরে আসার পর এপ্রিলের শুরুর দিকে রাজধানীর বনানী থানায় একটি মামলা করা হয় নগদের পক্ষ থেকে। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় ডিবি। ডিবির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে তদন্ত শুরু হয়। শনিবার রাতে রংপুরের মিঠাপুকুর ও নরসিংদী সদর থেকে ঐ তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়। নগদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা প্রাথমিক পর্যায়ের ১ কোটি ৪০ লাখ শিশুর অভিভাবকের কাছে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির এই টাকা পৌঁছে দিয়েছেন।

নগদের হেড অব এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স লে. কর্নেল মো. কাওসার সওকত আলী (অব.) বলেন, ‘আমরা খুবই আনন্দিত যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপের কারণে অপরাধী চক্র ধরা পড়েছে। এজন্য ‘নগদ’ এর পক্ষ থেকে আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বিশেষ করে ‘নগদ’ ব্যবহার করে ভবিষ্যতে কেউ অপরাধ সংগঠনের চেষ্টা করলে অপরাধীকে আইনের কাছে সমর্পণ করতে সব সময়ই আমাদের সুদৃঢ় অবস্থান রয়েছে। সরকারি আর্থিক সেবা হিসেবে গ্রাহকের তথ্য ও অর্থের নিরাপত্তা বিধান আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার এবং সে লক্ষ্যেই কাজ করছি আমরা।