পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রের মধ্যে উত্তেজনার নতুন কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে মুখ্য সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বদলি। গত শুক্রবার হঠাত্ করেই মুখ্য সচিবকে বদলির চিঠি পাঠায় কেন্দ্রীয় সরকার। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের আবেদনের ভিত্তিতে এর চার দিন আগে মুখ্য সচিবের মেয়াদ তিন মাস বৃদ্ধির অনুমোদন দেয় ভারত সরকার। এ অবস্থায় আলাপনকে বদলি করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিনি চিঠি প্রত্যাহার করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। আজ সোমবার সকাল ১০টায় দিল্লি নর্থ ব্লকে হাজির হতে বলা হলেও আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় আজ যাচ্ছেন না। রাজ্য সরকারও প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র দেয়নি তাকে। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে তাকে বদলির চিঠি প্রত্যাহার করা হয়নি।
মুখ্য সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় আজ সোমবার দিল্লি যাচ্ছেন না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ডাকা বৈঠকে আজ তার উপস্থিত থাকার কথা। রবিবার বিকেলে স্ত্রী তথা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সোনালি চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে আলাপন পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ভবন নবান্নে গিয়েছিলেন। তার সঙ্গে যারা কাজ করেন, তাদের আলাপন আজ সোমবার দপ্তরে আসতে বলেছেন। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় সরকারকে জানানো হবে যে আলাপন দিল্লি যেতে পারছেন না। কারণ সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে কোনো আইএএস (ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস) অফিসারকে দিল্লিতে ডাকতে হয়। আলাপনের ক্ষেত্রে এটা করা হয় নি। তাই আইনত এই নির্দেশ কেন্দ্রীয় সরকার দিতে পারে না। তাছাড়া নিয়ম অনুযায়ী রাজ্য সরকার ছাড়পত্র না দিলে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে যোগ দেওয়া যায় না। আলাপনকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনেই কাজ করতে হবে। কারণ তার মেয়াদ বৃদ্ধির অনুমোদন কেন্দ্রীয় সরকার দিয়েছে। আর তিনি যদি দিল্লিতে নতুন পদে যোগ দেন, সেক্ষেত্রে চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি বাতিল হয়ে যেতে পারে। এমনটা হলে আজ সোমবার হতে পারে তার চাকরিজীবনের শেষ দিন। নিয়মানুযায়ী রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট আমলাকে এবং কেন্দ্রকে চিঠি দেওয়া হলে তবেই ঐ কর্মকর্তা কেন্দ্রীয় সরকারের কাজে যোগ দিতে পারেন।
গত শুক্রবার কলাইকুন্ডা বিমানবন্দরে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনায় প্রধানমন্ত্রী মোদির ডাকা বৈঠকে হাজির থাকার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ও মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু দুই জনের কেউই ঐ বৈঠকে যোগ দেননি। মুখ্যমন্ত্রী আলাদা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত্ করে বিপর্যয়ে ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান পেশ করেন। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আলাপনকে দিল্লিতে তলব করে কেন্দ্রীয় সরকার।
শুক্রবার রাতে এই বদলির নির্দেশ আসার পর শনিবার নবান্নে সংবাদ সম্মেলন করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা কেন্দ্রের কাছে আবেদন করেন তাদের নির্দেশ প্রত্যাহার করার জন্য। কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের সচিব পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তাকে তাদের কাজে যোগদানের বিষয়ে নির্দেশ দিলে সরাসরি রাজ্য সরকারকে জানায়। এক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের পাশাপাশি আলাপনকেও চিঠি দেওয়া হয়েছে।
আলাপনের দিল্লিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেই মনে করছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক আমলারা। তারা বলছেন, কয়েক বছর আগেই পশ্চিমবঙ্গের তিন আইপিএসকে (ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিস) দিল্লিতে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। মমতা না ছাড়ায় তারা এখনো পশ্চিমবঙ্গেই কর্মরত রয়েছেন। তামিলনাড়ুতেও একই রকম ঘটনা ঘটেছিল। সেখানে চার আইপিএসকে বদলি করে দিল্লিতে ডাকে ভারত সরকার। তামিলনাড়ু সরকার তা মানেনি। আলাপনকে দিল্লিতে কাজে যোগ দিতে হলে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছ থেকে ‘রিলিজ অর্ডার’ নিতেই হবে। রিলিজ অর্ডার না পেলে তার দিল্লি যাওয়া হচ্ছে না।
