চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কোদালা বন বিটে শেখ রাসেল এভিয়ারী এন্ড ইকো পার্ক এলাকায় অবৈধভাবে ঘর নির্মাণে বাধা দেওয়ায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও দখলকারীদের সশস্ত্র হামলায় রাঙ্গুনিয়া বন রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ ১৫ বনকর্মী আহত হয়েছে। এছাড়া সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের নারীসহ আহত হয় ১২ জন। এঘটনা পুলিশ তাৎক্ষনিকভাবে দুই নারীসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। সোমবার (৩১ মে) সকাল ১১ টার দিকে এভিয়ারী পার্কের জঙ্গল দক্ষিণ নিশ্চিন্তাপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এসময় বনের জায়গায় বসবাসকারীরা পাল্টা অভিযোগ করে জানান, বনকর্মীরা অতর্কিতভাবে এসে ঘর ভেঙ্গে দেয়ার সময় তাদের উপর অমানবিক নির্যাতন করে। স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, বন কর্মকর্তা ও বনকর্মীদের ম্যানেজ করে দীর্ঘদিন ধরে বন বিভাগের জায়গায় ঘর নির্মাণ করে কয়েকটি পরিবার অবাধে বসবাস করে আসছিল। অতর্কিতভাবে তাদের উচ্ছেদ করতে আসায় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
কোদালা বন বিট কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান জানান, সরকার দলের স্থানীয় কতিপয় নেতাকর্মী প্রভাব বিস্তার করে এভিয়ারী পার্ক এলাকায় বন বিভাগের জায়গা জবর দখল করে আসছে। তারা সেখানে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করছিল। বাধা উপেক্ষা করে পার্কের জায়গায় গত কয়েকদিনে অবৈধভাবে ৩ টি ঘর নির্মাণ করা হয়। সকালে রাঙ্গুনিয়া বন রেঞ্জের কর্মকর্তার নেতৃত্বে বনকর্মীরা ওই ঘর ভেঙ্গে দিতে গেলে মঈনউদ্দির মঈনু, মোহাম্মদ সেলিম, আনোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ সফিসহ ৩০/৩৫ জনের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী সন্ত্রাসীদল অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের উপর আক্রমণ করে। ধারালো দা, কিরিজ ও লাঠিসোটা দিয়ে কুপিয়ে এবং বেধরক আঘাত করেছে।
রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুব মিল্কী জানান, পার্কের জায়গায় অবৈধভাবে ঘর নির্মাণ এবং মারধরের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।তাৎক্ষনিকভাবে দুই নারীসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে পুলিশি তৎপরতা চলছে। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছেন, আয়াতুন নুর (৪৫), স্বামী জসিম উদ্দিন, রিকো আক্তার (২৪) স্বামী মোহাম্মদ সোলায়মান, মোহাম্মদ আরাফাত (১৬) পিতা মোহাম্মদ বাহাদুর ও মোহাম্মদ রহিম (২৫) পিতা জসিম উদ্দিন।
হোসনাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঈনুদ্দিন মঈনু বলেন, কোদালা বনবিট এলাকায় বনকর্মীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ এবং ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। এসময় বনকর্মীদের আক্রমণে মহিলাসহ স্থানীয় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মী এ ঘটনায় জড়িত নয় বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, বন কর্মীদের হামলায় নারী পুরুষসহ স্থানীয় ১২ জন আহত হয়েছেন।
ইত্তেফাক/এমএএম
