করোনা মহামারীতে অর্থনৈতিক সঙ্কটে দেউলিয়া হওয়ার পথে পাকিস্তান। স্বাভাবিক ভাবেই দেশটির অর্থনীতির পারদ উর্ধ্বমুখী না। তার মধ্যে সৌদিকে শোধ দেওয়ার জন্য ৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছে চীন।
এই সপ্তাহের শুরুর দিকে জরুরীভাবে বেইজিংয়ের দেওয়া জ্বালানি প্রকল্পের ঋণ গুলো অনুরোধ জানায় পাকিস্তান। ২০ এপ্রিল ২০১৫-তে, পাকিস্তান ও চীন ৪৬ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে কাজ শুরু করার জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা পাকিস্তানের বার্ষিক জিডিপি'র প্রায় ২০%, সঙ্গে ২৮ বিলিয়ন ডলারের দ্রুতগতি সম্পন্ন "আর্লি হারভেস্ট" প্রকল্পগুলি তৈরি করার জন্য।যা সিপিইসি নামে পরিচিত।
এর আগে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও সরাসরি বিনিয়োগ বাড়াতে এবং স্বল্প সময়ের জন্যে আর্থিক ঋণ সহায়তা দিতে পাকিস্তানের স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তান ও চীনের পিপলস ব্যাংক অব চায়না ২০১১ সালের ডিসেম্বরে কারেন্সি সোয়াপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সিএসএ) সই করে।
পরে, ২০১৪ সালে চুক্তিটি তিন বছরের জন্যে নবায়ণ করা হয়। সে সময় আর্থিক সহায়তার সীমা ধরা হয় ১০ বিলিয়ন ইউয়ান বা দেড় বিলিয়ন ডলার। ২০১৮ সালের মে মাসে চুক্তিটির মেয়াদ আরও তিন বছর বাড়ানো হয়। সে সময় আর্থিক সহায়তার সীমা ধরা হয় ২০ বিলিয়ন ইউয়ান বা তিন বিলিয়ন ডলার।
নিয়ম অনুযায়ী এই মে মাসে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। তবে পাকিস্তান চুক্তিটি আরও তিন বছরের জন্যে বাড়ানোর অনুরোধ করেছে। চুক্তি অনুযায়ী এই অতিরিক্ত দেড় বিলিয়ন ডলার ঋণ পাকিস্তানের সরকারি ঋণ হিসেবে গণ্য হবে না। এটি মূলত চীনের বাণিজ্যিক সুবিধা হিসেবে বিবেচিত হবে।
২০১৫ সালে ইরানের কাছ থেকে বিদ্যুৎ কেনার বিষয়ে অনুমতি দিয়েছে পাকিস্তানের জাতীয় বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বা এনইপিআরএ। এ অনুমোদন অনুযায়ী ৩০ বছর ধরে পাকিস্তান এক হাজার মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ ইরান থেকে আমদানি করবে। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য পাকিস্তানকে ০.১ ডলার করে দিতে হবে।
এ ছাড়া, ইরান থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করার জন্য বেলুচিস্তানে বিদ্যুৎ ট্রান্সমিশন লাইন বসাতে যে খরচ হবে তা ৭০ শতাংশ যোগানোর জন্য তেহরান প্রস্তুত রয়েছে বলে এ খবরে উল্লেখ করা হয়েছে। পাক-ইরান সীমান্ত থেকে বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক সীমান্ত পর্যন্ত বিদ্যুৎ পরিবহন লাইন বসাতে ৫৮ কোটি ডলার খরচ হবে।
এদিকে পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান বিলওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেছেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা থেকে ঋণ নিচ্ছেন। এই ঋণ দেশের অর্থনৈতিক অখণ্ডতা ও স্বাধীনতাকে বন্ধক রাখার সমতুল্য।
তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান দেশকে নেকড়ের মুখের কাছে ছুড়ে দিয়েছেন। দেশকে এই সংকট থেকে বাঁচাতে তার ভার পরবর্তী সরকারগুলোকে বহন করতে হবে।
তিনি বলেন, শুধু ২০২১ সালেই ইমরান খান সরকার ১ হাজার কোটি ডলার ঋণ নিয়েছেন, যা আগের তুলনায় ৩৫ শতাংশ বেশি। এই অযোগ্য প্রধানমন্ত্রী যে ঋণ নিয়েছে আমাদের সমস্ত জাতীয় সম্পদ ঋণদাতাদের কাছে বন্ধক রাখলেও তা কখনও শোধ হবে না। এতে পাকিস্তান এমন এক অনিশ্চিত অবস্থানে গেছে যা থেকে কখনও ফিরে আসা যাবে না।
এই অবস্থা আমরা এখন বুঝতে পারছি না। কিন্তু আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে এই ঋণের বোঝা বইতে হবে-যোগ করেন তিনি।
ইত্তেফাক/এএইচপি
