করোনাভাইরাস নিয়ে বক্তব্য দিয়ে আবারও বিতর্ক উস্কে দিয়েছেন ভারতের যোগগুরু রামদেব। তিনি বলেছেন, ‘যোগ ব্যায়াম ও আয়ুর্ভেদের ডাবল ডোজ নিচ্ছি। আর করোনার টিকা লাগবে না আমার।’
গতকাল সোমবার (৩১ মে) ভারতে এক অনুষ্ঠানে ভারতের এই যোগগুরু বলেন, ‘ভবিষ্যতে সারা বিশ্বে গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে আয়ুর্বেদের।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি গত বেশ কয়েক দশক ধরে যোগ ব্যায়াম ও আয়ুর্ভেদ উভয়ই অনুশীলন করছি। বলতে পারেন যোগের ডাবল ডোজ নিচ্ছি। এটাই আমার জন্য যথেষ্ট। আমার করোনা টিকার কোনো প্রয়োজন নেই।’
বরাবরের মতো অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসার সমালোচনা করে রামদেব বলেন, ‘গত ১৫ মাস ধরে এত যে মানুষ করোনায় প্রাণ হারাচ্ছেন, তা ঠেকাতে ব্যর্থ অ্যালোপ্যাথি। যা প্রমাণ করে যে অ্যালোপ্যাথি পূর্ণাঙ্গ চিকিত্সা দিতে পারে না।’
তিনি দাবি করেন, ১০০ কোটি ভারতীয় এবং পরবর্তীতে গোটা বিশ্ব আয়ুর্বেদকে গ্রহণ করবেন ভবিষ্যতে। অথচ দেশের একটি অংশ বর্তমানে ইচ্ছে করে আয়ুর্বেদকে তা উপেক্ষা করছে।
সম্প্রতি এক ভিডিওতে রামদেবকে বলতে শোনা যায়, চিকিৎসা বা অক্সিজেন না পেয়ে যত মানুষ মারা গিয়েছেন তার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ মারা গিয়েছেন অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ খেয়ে। অ্যালোপ্যাথি এক দেউলিয়া হয়ে যাওয়া বিজ্ঞান।
এই বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ভাইরাল হয়। এরপরেই সমালোচনা শুরু হয়ে যায়। রামদেবের উদ্দেশে চিঠি লিখেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধনও। সেখানে তিনি লেখেন, আপনার মন্তব্যে দেশবাসী আহত হয়েছেন। ফোনে এ কথা আপনাকে জানিয়েছি। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা দেশবাসীর কাছে ঈশ্বরের মতো। তারা প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়ে চলেছেন।
বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য রামদেবের বিরুদ্ধে এক হাজার কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করেছে ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (আইএমএ) এর উত্তরাখণ্ড শাখা। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আনন্দবাজার।
এক নোটিশে আইএমএ জানিয়েছে, ভিডিও বার্তায় অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ নিয়ে নিজের বিবৃতি বদলানো এবং ক্ষমা চাইতে হবে রামদেবকে। তার জন্য তাকে ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। তিনি ক্ষমা না চাইলে এক হাজার কোটি টাকা দাবি করা হবে।
আনন্দবাজার জানায়, উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী তিরথ সিংহ রাওয়াতকেও রামদেবের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন।
সেই ঘটনার পর আরও এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন রামদেব। তিনি বলেন, ‘স্বামী রামদেবকে তাদের বাবাও গ্রেপ্তার করতে পারবে না। তারা ‘ঠগ রামদেব’, ‘মহাঠগ রামদেব’, ‘গ্রেফতার রামদেব’ এসব ট্রেন্ড করাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তারা এ রকম করুক। আমার এসব দেখে অভ্যস্ত।’
ইত্তেফাক/টিআর
