আসল আসামি বাইরে, তার হয়ে জেল খাটছে অন্যজন! বাংলা চলচ্চিত্র ‘আয়নাবাজি’র চিত্রনাট্য যেন বাস্তবে সত্য হলো। পুলিশ কর্মকর্তা মামুন ইমরান খান হত্যা মামলায় প্রকৃত আসামি রবিউলের পরিবর্তে ‘ভাড়া করে’ চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার আইনপুর গ্রামের নুরুজ্জামানের ছেলে আবু ইউসুফ লিমনকে জেল খাটানোর অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, ২০১৮ সালে সিআইডি পুলিশের এসআই মো. মামুন ইমরান খানকে হত্যার পর পেট্রোল ঢেলে লাশ পুড়িয়ে গাজীপুর বনে ফেলে দেয় একদল দুষ্কৃত। এই মামলায় ২০১৯ সালের ৩১ মার্চ অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। এরপর ঢাকার ১ নম্বর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচার শুরু হয় মামলাটির। এই মামলার ৬ নম্বর আসামি হলেন রবিউল ইসলাম ওরফে আপন ওরফে সোহাগ ওরফে হৃদয়। তিনি পলাতক রয়েছেন। কিন্তু তার পরিবর্তে রবিউল সেজে চাঁদপুরের দরিদ্র পরিবারের সন্তান মো. আবু ইউসুফ লিমন গত ২০ অক্টোবর ঢাকার আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠায়।
দীর্ঘদিন ছেলের সন্ধান না পেয়ে লিমনের বাবা নুরুজ্জামান গত ১৪ জানুয়ারি কচুয়া থানায় জিডি করেন। জিডি করার পর তিনি জানতে পারেন, তার ছেলে কাশিমপুর কারাগারে। খবর পেয়ে ছেলের সঙ্গে কারাগারে দেখা করতে গেলে তার কারাগারে যাওয়ার ঘটনা জানতে পারেন। নুরুজ্জামান জানান, তার ছেলেকে আসামি ভয়ভীতি ও অর্থের লোভ দেখিয়ে আদালতে রবিউল সেজে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করা হয়।
লিমনের আইনজীবী শামীম জানান, তার মুক্তির জন্য ঢাকার আদালতে আবেদন করা হয়েছে। আদালত গত ২ মার্চ বিষয়টি তদন্ত করতে ডিবি পুলিশকে নির্দেশ দেয়। তদন্ত করে ডিবি পুলিশ গত ২ মে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। ঐ প্রতিবেদনে ঘটনার সত্যতা খুঁজে পায় তারা। এ আবেদনের ওপর আগামী ২ জুন ঢাকার ১ নম্বর অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে আদেশের জন্য দিন ধার্য রয়েছে।
উল্লেখ্য, লিমনের বাবা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে তার সংসার। লিমন কুমিল্লায় প্রাইভেটে প্যারামেডিক্যালে লেখাপড়া করেন। জেলা ক্রিকেট দলের একজন নিয়মিত খেলোয়াড়। সর্বশেষ ঢাকার সিটি ক্লাবে ভর্তি হয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়াও শুরু করেছিলেন।
ইত্তেফাক/এমআর
