চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকায় আসতে চাইলেই আটক করছে স্থানীয়রা

আপডেট : ০১ জুন ২০২১, ১৯:২০

করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে ঘোষিত লকডাউন উপেক্ষা করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নওগাঁর নিয়ামতপুর হয়ে ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতির সময় ১২ জনকে আটক করে স্থানীয়রা। পরে তাদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। 

সোমবার (৩১ মে) রাতে নিয়ামতপুর উপজেলার পাড়ইল ইউনিয়নের পৈলানপুর গ্রামের মোড়ে তাদের আটক করা হয়। এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় ৬৭ জন শনাক্ত হলেও ৩৭ জনই চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সীমান্ত ঘেঁষা উপজেলা নিয়ামতপুরবাসী।

জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে সিএনজি যোগে পৈলানপুর গ্রামের মোড়ে সোমবার সন্ধ্যায় এসে একত্রিত হন। এরপর বাসযোগে রাত ১০টার দিকে ঢাকা যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় জনসাধারণের বাধার মুখে বাসচালক তাদের রেখে চলে যান। 

স্থানীয় পাড়ইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ মুজিব জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় লকডাউন চলছে। ফলে জেলা থেকে সরাসরি অন্য জেলা থেকে কোথায় যেতে পারছেন না। চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাথে নিয়ামতপুর অনেক সীমানা হয়েছে। প্রতিদিনই রাস্তা ও পায়ে শতশত মানুষ হেঁটে চলাচল করে থাকেন। আর এই সুযোগ নিয়ে এর আগেও কয়েকবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা থেকে নিয়ামতপুর হয়ে গোপণে ঢাকায় গিয়েছেন অনেকে। তবে গত রাতে ঘটনাটি জানতে পেরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানার অফিসার ইনচার্জকে মোবাইল ফোনে জানালে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থালে পুলিশ পাঠানো হয়। থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইউনুস আলীর নেতৃত্বে পুলিশ এসে তাদের মৌখিক মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেন।

No description available.
 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়া মারীয়া পেরেরা জানান, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে লকডাউন উপেক্ষা করে বাসসহ বিভিন্ন উপায়ে ঢাকা যাচ্ছে অসাধু ব্যক্তিরা এমন সংবাদের ভিত্তিতে স্থানীয় জনগণ ঢাকাগামী ১২ জন যাত্রীকে আটক করেন। পরে তাদের মৌখিক মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। যদি পুন:রায় এরকম ঘটনা ঘটে তাহলে তাদের আটক রেখে আমাদেরকে সংবাদ দেওয়ার জন্য উপজেলাবাসীদের অনুরোধ জানানো হয়েছে। 

No description available.

নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা: এবিএম আবু হানিফ জানান, গত ২৪ ঘন্টায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে জেলায় ৩জন মারা গেছেন। মৃতদের মধ্যে নিয়ামতপুরে ১ জন জন। আর জেলায় মোট শনাক্ত ৬৭ জন। এই ৬৭ জনের মধ্যে ৩৭ জনই নিয়ামতপুরবাসী। তিনি আরো জানান চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা নিয়মতপুর উপজেলার অধিকাংশ সীমান্তবর্তী হওয়ায় এই উপজেলায় করোনায় শনাক্তের হারও বৃদ্ধি পেয়েছে। সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ইত্তেফাক/এসজেড