৯ মাসে ইলেকট্রনিক্স পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে সাড়ে ৮ গুণ

আপডেট : ০১ জুন ২০২১, ২০:২২

বাংলাদেশে তৈরি কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স পণ্যের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, গুণগতমান ও সাশ্রয়ী মূল্য জয় করে নিচ্ছে বিশ্ব ক্রেতাদের আস্থা। ইউরোপসহ বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগযুক্ত ইলেকট্রনিক্স পণ্যের নতুন রপ্তানি বাজার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারি দুর্যোগের মধ্যেও বাংলাদেশের কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স পণ্য রপ্তানিতে এসেছে সাফল্য।

চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই’২০-মার্চ’২১) ইলেকট্রনিক্স পণ্য রপ্তানির পরিমান আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় সাড়ে আট গুণ বেড়ে ১২.৩৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। মোট রপ্তানির প্রায় ৬৭.২১ শতাংশ আয় এককভাবে অর্জন করেছে দেশের ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট ওয়ালটন। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন ওয়ালটন গ্রুপের সিনিয়র ডেপুটি অপারেটিভ ডিরেক্টর রবিউল ইসলাম মিলটন ।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো বা ইপিবি’র তথ্যমতে, বাংলাদেশের কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স পণ্য রপ্তানি তালিকায় রয়েছে রেফ্রিজারেটর, ফ্রিজার, এলইডি টেলিভিশন, এয়ার কন্ডিশনার, ওয়াশিং মেশিন, ব্লেন্ডার, রাইসকুকার, গ্যাস স্টোভ, ইন্ডাকশন কুকার, ফ্যান, হট প্লেট, রেফ্রিজারেটর কম্প্রেসর ও কম্প্রেসরর তৈরির যন্ত্রাংশ। 

ইপিবি’র প্রকাশিত পণ্যভিত্তিক তথ্যানুসারে, গত জুলাই থেকে মার্চ’২১ পর্যন্ত সময়ে দেশের কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স পণ্য রপ্তানিতে আয় হয়েছে প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ বা ১২.২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরের (২০১৯-২০) একই সময়ে এ খাতের রপ্তানি আয়ের পরিমান ছিল প্রায় ১৪ লাখ ৩৮ হাজার বা ১.৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সেই হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে দেশের ইলেকট্রনিক্স ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স পণ্যে রপ্তানি বেড়েছে সাড়ে আট গুণ।  

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের কাছ থেকে রপ্তানি প্রণোদনা ও অন্যান্য নীতি সহায়তা পেলে দেশীয় ইলেকট্রনিক্স ইন্ডাস্ট্রিজ পোশাক শিল্পের মতো আরেকটি বড় রপ্তানি খাত হয়ে উঠার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে স্থানীয় বাজারে বিদেশী ব্র্যান্ডের দৌরাত্ম্য দূর করে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে নিজেদের একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে দেশীয় ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ডগুলো সামর্থ্যরে প্রমাণ দেখিয়েছে।  

আন্তর্জাতিক বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স বাজারে নেতৃত্ব দেয়ার যথেষ্ট সামর্থ্য রয়েছে বাংলাদেশী ব্র্যান্ডের। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমেরিকা ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় বেশিরভাগ গ্লোবাল ব্র্যান্ড এখন অন্যান্য এশিয়ান দেশগুলোর সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থাপনের দিকে ঝুকছে। এই সুযোগ লুফে নিয়ে বাংলাদেশের বিশ্ব কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স পণ্যের হাব হয়ে উঠার ব্যাপক সামর্থ্য রয়েছে। 

ইপিবি’র তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইলেনকট্রনিক্স খাতের রপ্তানি আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি এই শিল্পকে সম্ভাবনাময় নতুন রপ্তানি খাত করে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে দেশের শীর্ষ ইলেকট্রনিক্স প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন। চলতি অর্থবছরে জুলাই’২০ থেকে মার্চ’২১, এই ৯ মাসে ৮.৩২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স পণ্য রপ্তানি করেছে ওয়ালটন। যা মোট রপ্তানির প্রায় ৬৭.২১ শতাংশ। 

চলতি অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে ওয়ালটন রপ্তানি করেছে প্রায় ১৮ লাখ ৩৬ হাজার মার্কিন ডলারের রেফ্রিজারেটর, প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলারের ফ্রিজার, প্রায় ১৭ লাখ ৬ হাজার মার্কিন ডলারের এয়ার কন্ডিশনার, প্রায় ৩৮ লাখ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের এলইডি টেলিভিশন, প্রায় ৬ লাখ ৬৬ হাজার মার্কিন ডলারের রেফ্রিজারেটর কম্প্রেসর ও আনুষঙ্গিক যন্ত্র্যাংশ, প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার মার্কিন ডলারের ওয়াশিং মেশিন, প্রায় ১০ হাজার ২৬৬ মার্কিন ডলারের ব্লেন্ডার, প্রায় ৩৭ হাজার ৮’শ মার্কিন ডলার মূল্যের গ্যাস স্টোভ, প্রায় ২৭ হাজার ৮’শ মার্কিন ডলারের রাইস কুকার, ৪ হাজার ৪’শ মার্কিন ডলারের ইন্ডাকশন কুকার, ১৭ হাজার ৬’শ ডলারের ফ্যান, ২ হাজার ২’শ ডলারের হট প্লেট। 

ইত্তেফাক/এসএইচ