কটিয়াদীতে হারিয়ে যাচ্ছে বাঁশ-বেতশিল্প

আপডেট : ০১ জুন ২০২১, ২০:৫৯

ব্রজগোপাল বণিক, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা

কটিয়াদীতে হারিয়ে যাচ্ছে বাঁশ-বেতশিল্প। বাঁশ দিয়ে তৈরি পণ্য পরিবেশবান্ধব হলেও বিকল্প প্লাস্টিকসামগ্রীর দাপট এবং বর্তমানে করোনার কারণে গ্রামীণ মেলা ও হাটবাজার বন্ধ থাকায় বিক্রি কমে গেছে। আর তাই অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে এ শিল্প।

সরজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ফেকামারার ঢুলিকান্দা গ্রামে বাড়ির পাশে সাজানো রয়েছে সারি সারি বাঁশ। ঐ বাঁশগুলো থেকে বাছাই করে সঠিক মাপে কাটা হচ্ছে। এরপর সেই বাঁশ থেকে তোলা হচ্ছে চিকন বেতি। সকাল থেকেই বাঁশ কাটা, বেতি তোলা আর ঐ বেতি দিয়ে ওড়া, খাঁচা ও ডোলা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা। এই গ্রামের অর্ধশতাধিক পরিবার বাঁশ-বেতশিল্পের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। বাঁশ দিয়ে তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রি করেই চলে তাদের সংসার। একটা সময় ছিল এ শিল্পে জড়িত ছিলেন কয়েক শ শ্রমিক। সকাল থেকে বাঁশ কাটার আওয়াজ শুরু হতো এই গ্রামের সর্বত্র। এক দিকে করোনা অন্যদিকে প্লাস্টিক পণ্যের ছড়াছড়িতে সেই চিরচেনা শব্দ অনেকটাই স্তব্ধ হয়ে গেছে। তাই স্বাভাবিক নিয়মেই এই পেশায় জড়িতরা পড়েছেন অর্থ সংকটে। এই পেশার সঙ্গে জড়িত আবু তাহের জানান, মাত্র কয়েক বছর আগেও এ অঞ্চলে বাঁশও সহজলভ্য ছিল। ৫০ থেকে ৬০ টাকায় একটি বাঁশ কেনা যেত। এখন একটির দাম ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। কিন্তু সেই অনুপাতে তৈরি জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি। বাঁশ দিয়ে একটি ওড়া তৈরি করতে ৫০ টাকা খরচ পড়ে। অথচ বাজারে তা ৫০ টাকার বেশি বিক্রি করা যায় না। গত ৫৫ বছর ধরে শেকড় আঁকড়ে ধরে জীবিকানির্বাহ করছি। করোনার আগে উপজেলা সমাজসেবা অফিস থেকে ৩০ জনকে প্রশিক্ষণ ও ১০ জনকে অনুদান দিয়েছিল। কিন্তু করোনার এই দুঃসময়ে কোনো সরকারি সাহায্য মেলেনি বলে অভিযোগ করেন তাহের। একই গ্রামের রেখা জানান, ধানের মৌসুম চলছে তাই যাবার ও ডোলার কিছুটা চাহিদা রয়েছে। তাই ডোলা তৈরি করছি। এক সময় বোরো ধান মৌসুমে এখানের তৈরি ডোলা কুমিল্লা, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, সিলেট, নেত্রকোনাসহ হাওর অঞ্চল থেকে পাইকাররা এসে কিনে নিয়ে যেত। কিন্তু বর্তমানে প্লাস্টিকের এই যুগে এর চাহিদাও কমে গেছে। এখন অভাব-অনটনে আমাদের দিন কাটছে।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. মোহাম্মদ মুশতাকুর রহমান বলেন, এই উপজেলার কিছু মানুষ এখনো বাঁশ-বেতশিল্পের ওপর নির্ভর করে জীবিকানির্বাহ করে। শিল্পটিকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।