স্পোর্টস রিপোর্টার
অনেক দিন ধরেই হকি ফেডারেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত। ২০১৮ সালের ১২ জুন ফেডারেশন সভাপতি হন তিনি। আগামী ১২ জুন মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। মাসিহুজ্জামান অবসরে গেলে নতুন সভাপতি আসবেন তাই বর্তমান সভাপতির সঙ্গে হকির কর্মকর্তাদের মধ্যে আজই শেষ বৈঠক। আনুষ্ঠানিক বিদায় দেওয়ার প্রস্তুতিও নিয়েছে ফেডারেশন। ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইউসুফ বললেন, ‘সভাপতি সাহেব অবসরে যাবেন। তাই আমাদের সঙ্গে আজ একটা মিটিংয়ের ব্যবস্থা করেছি।’
সভাপতি মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাতের সঙ্গে ১৮ মাস কাজ করেছেন মোহাম্মদ ইউসুফ। কেমন সভাপতি ছিলেন? ১৮ মাসের অভিজ্ঞতায় মোহাম্মদ ইউসুফ বললেন, অসম্ভব ভালো একজন মানুষ ছিলেন তিনি। অসম্ভব হকি প্রেমি।
১৮ মাস কাজ করতে গিয়ে নানা ঝামেলায় পড়তে হয়েছিল হকি ফেডারেশনকে। বিশেষ করে নির্বাচনের কিছু দিন পর সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল হক সাঈদ দেশ ছেড়েছেন। তার অনুপস্থিতিতে হকি কর্মকাণ্ড নানা কারণে জটিলতায় পড়ে যাচ্ছিল। অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে হকির কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন ফেডারেশনের সভাপতি।
আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট দুটি শেষ পর্যন্ত আয়োজন করা যায়নি করোনার কারণে। বেশ কয়েকটা টুর্নামেন্ট হলেও লিগটা আয়োজন করতে পারেনি। লিগ নিয়ে সভাপতি মাসিহুজ্জামানের আন্তরিকতার অভাব কখনো ছিল না। ক্লাবগুলোকে মাঠে নামানোর জন্য মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত বার বার এগিয়ে এসেছেন। তিনি বার বারই বলে এসেছেন লিগ হবে। তার পরও কোথায় যেন পিছিয়ে যেতে হতো। ফেডারেশনের অভ্যন্তরে ঘটে যাওয়া কষ্টের কথাগুলো কখনো প্রকাশ করতেন না তিনি। পিছিয়ে না গিয়ে সবকিছু পজিটিভ চোখে দেখেছেন। উত্সাহ জোগাতেন। যখনই সব কিছু গুছিয়ে আনতেন তখনই কোনো না কোনো অদৃশ্য বাধা সামনে এসে দাঁড়াতো। এটা সত্য যে, লিগের স্বার্থে, খেলোয়াড়দের স্বার্থে সভাপতির আন্তরিকতাকে কাজে লাগাতে ক্লাবগুলোর আরো বেশি এগিয়ে আসা প্রয়োজন ছিল। শেষ বার করোনার কারণে লিগের পরিকল্পনাটা ভেঙে যায়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে কোটি টাকাও এনে দিয়েছেন। এই মানুষটি হকির জন্য প্রাণ ছিলেন। কিছু করার চেষ্টা করেছেন তিনি। হকিতে ভালো মানুষের পাশাপাশি কিছু দুষ্টু লোকের আনাগোনা আছে। এদের ছাপিয়ে ফেডারেশনের কাজ পরিচালনা করা মাঝেমধ্যে দুরূহ হয়ে পড়ে। তার পরও মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত সব সময় সবার সঙ্গে হাসি মুখে কথা বলেছেন। কঠিন কাজটা সহজে আদায় করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে গেছেন দেশের হকির স্বার্থে, হকির মঙ্গলের জন্য। মোহাম্মদ ইউসুফ বললেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে হকির কথা বলেছেন। টাকা এনেছেন এটাই বা কম কিসে। ‘উনি যথেষ্ট সহযোগিতা করেছেন।’
