রাজধানীর কলাবাগানে গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিত্সক কাজী সাবিরা রহমান লিপির হত্যাকান্ডের কোনো কুল কিনারা হয়নি। তবে ভিকটিমের বাসার কক্ষে পাওয়া গেছে পোড়া সিগারেটের ২ টি অবশিষ্টাংশ। এটিকে খুনের মোটিভ উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসাবে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা। সিগারেটের অবশিষ্টাংশ দুইটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ বলছে, সিগারেটের অবশিষ্টাংশ দুইটি উদ্ধার হলেও কক্ষে সিগারেটের ছাঁই রাখার কোন অ্যাসট্রে পাওয়া যায়নি। ভিকটিম নিজে নাকি অন্য কেউ ধুমপান করেছেন-তার ফিঙ্গার প্রিন্ট উদঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে। ঘটনার দিন ডা. সাবিরার কক্ষে সাবেলেটে থাকা ওই তরুণি গিয়েছিল কী-না তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পুলিশ ধারনা করছে, ভিকটিমের ঘাতক পূর্ব পরিচিত। এছাড়াও সাবিরার ভাড়া বাসার সাবলেটে থাকা তরুণি, তরুণির বন্ধু, দারোয়ানসহ ৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তবে তাদের কাছ থেকে খুনের কোন ক্লু পাওয়া যায়নি। ভিকটিমের ভাড়া বাসায় কোন সিসি ক্যামেরা না থাকার কারণে খুনিকে চিহ্নিত করতে বেগ পেতে হচ্ছে তদন্তকারীদের।
পুলিশ জানায়, কলাবাগান ১ম লেনের ৫০/১ নম্বর বাড়ির পরে একটি বাসায় সিসি ক্যামেরার ফুটেজ জব্দ করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রাস্তায় অত্যধিক লোক চলাচলের কারণে ভিকটিমের বাসায় ঘটনার দিন কে গিয়েছিল তা নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা যায়নি। এছাড়া ডা. সাবিরার কক্ষ থেকে কোন স্বর্ণ বা টাকা চুরি হয়নি। তার আলমারির তালা অক্ষত ছিল। সাবিরার মোবাইল ফোনটি জব্দ করেছে মামলার তদন্তকারীরা। কললিস্ট ধরে চলছে তদন্ত। পাশাপাশি ওই বাসায় এক ব্যক্তির যাতায়াতের তথ্য পাওয়া গেছে। কে ওই ব্যক্তি তাকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
এদিকে, নিহতের ময়নাতদন্ত গতকাল দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে সম্পন্ন হয়েছে। পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে সাবিরার মরদেহের বুক থেকে পা পর্যন্ত প্রায় ৫০ শতাংশ পোড়া ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া তার গলার বাম পাশে দু’টি, কানের নিচ ও পিঠের মাঝ বরাবর তিনটি ও কোমরে একটি কাটা চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল রাত পর্যন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি। মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে বলে জানিয়েছেন কলাবাগান থানার ওসি পরিতোষ চন্দ্র।
এ বিষয়ে কলাবাগান থানার ওসি জানান, ‘এটি একটি ক্লু লেস খুন। খুনের মোটিভ উদঘাটনে আমরা বিভিন্ন বিষয়ে মাঠে কাজ করছি। আশা করছি, খুনের মোটিভ দ্রুত উদঘাটিত হবে। ভিকটিমের পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা হয়েছে। তারা লাশ দাফন করার পর এ ব্যাপারে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন।’
সোমবার দুপুরে কলাবাগানের ফার্স্ট লেনের ৫০/১ ভাড়া বাসা থেকে গ্রীন লাইফ হাসপাতালের কনসালটেন্ট (সনোলজিস্ট) চিকিত্সক কাজী সাবিরা রহমান লিপির (৪৭) রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
সূত্র জানায়, গোয়েন্দারা ডা. সাবিরা গ্রিন হাসপাতাল থেকে কখন বের হয়েছিলেন এবং তিনি কী রিকশা না প্রাইভেট গাড়িতে এসেছিলেন তার জন্য তার কর্মস্থল হাসপাতালে গিয়ে তথ্য নিয়ে এসেছে। পরে তারা জানতে পেরেছেন যে, রবিবার তিনি রিকশায় করে বাসায় ফিরেছিলেন। হাসপাতালের কোন সহকর্মীর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ছিল কিনা তারা যাচাই করছেন। তবে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন যে, ওই হাসপাতালের কয়েকজন চিকিত্সকের সঙ্গে তার ঘনিষ্ট সম্পর্ক ছিল।
সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটককৃত গৃহকর্মীর কাছে পাওয়া তথ্যগুলো গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে মামলার তদন্তকারীরা। কারণ ওই গৃহকর্মী তার বাসায় প্রায় ২ বছর ধরে কাজ করেন। এছাড়াও তার বাসার সাবেলেটে ভাড়া থাকা ওই তরুণীল তথ্যও গুরুত্বের সঙ্গে নেয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে নিহতের মামাতো ভাই মো. রেজাউল হাসান জানান, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। বিষয়টিকে অন্যদিকে ডাইভার্ট করার জন্য আগুনের ঘটনা সাজানো হয়েছে। আমরা এখনও কাউকে সন্দেহ করছি না। তদন্তের পর পুলিশ বিস্তারিত বলতে পারবে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সাবিরার বাবার নাম কাজী ওয়াহিদুর রহমান। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলার কোতয়ালি থানার ভরসার বাজার এলাকায়।
