কারাগারেই থাকতে হচ্ছে রাশেদ চিশতীকে

আপডেট : ০১ জুন ২০২১, ২১:৫১

১৫৯ কোটি টাকা পাচারের মামলায় কারাগারেই থাকতে হচ্ছে রাশেদ চিশতীকে, যিনি এই ব্যাংকের অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী ওরফে বাবুল চিশতীর ছেলে। এই মামলায় রাশেদ চিশতীকে জামিন দিয়েছিল ঢাকার বিশেষ জজ আদালত। ঐ জামিনাদেশ বহাল রাখে হাইকোর্ট। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ গতকাল হাইকোর্টের জামিনাদেশ বাতিল করে দেয়। একই সঙ্গে বিশেষ জজ আদালতকে এই মামলার বিচার কার্যক্রম দ্রুত নিষ্পত্তি করতেও নির্দেশ দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। আপিল বিভাগের এই আদেশের ফলে রাশেদ চিশতীকে মামলার বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারেই থাকতে হচ্ছে বলে জানান আইনজীবীরা।

আদালতে আসামিপক্ষে আইনজীবী এ এফ হাসান আরিফ, দুদকের পক্ষে খুরশীদ আলম খান ও রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মো. মোরসেদ শুনানি করেন। শুনানির একপর্যায়ে আপিল বিভাগের বিচারপতিরা জানতে চান, এই মামলার সর্বোচ্চ সাজা কত বছর? তখন দুদকের কৌঁসুলি জানান, সর্বোচ্চ সাজা ১২ বছর। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে বলা হয়, এখন মামলার বিচার শেষ পর্যায়ে। এই অবস্থায় জামিন দিলে তিনি পালিয়ে যাবেন। তখন এ এফ হাসান আরিফ বলেন, তার পাসপোর্ট জব্দ রয়েছে।

ফারমার্স ব্যাংকের ১৫৯ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে ২০১৮ সালের ১০ এপ্রিল মাহবুবুল হক চিশতী ও তার পরিবার এবং ব্যাংক কর্মকর্তাদের নামে মামলা করে দুদক। এই মামলায় ব্যাংকটির নিরীক্ষা কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতীসহ (বাবুল চিশতী), তার স্ত্রী রোজি চিশতী, ছেলে রাশেদুল হক চিশতী, ফারমার্স ব্যাংকের চাকরিচ্যুত এসভিপি জিয়া উদ্দিন আহমেদ ও চাকরিচ্যুত ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মাসুদুর রহমান খানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। ইতিমধ্যে এই মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ রাষ্ট্রপক্ষে ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন করেছে। এই মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন পান রাশেদুল। সেই জামিন বহাল রাখে হাইকোর্ট। এই আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে দুদক। ঐ আপিলের শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ জামিন বাতিল করে দেয়। এর আগে শুনানিকালে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. ইমান আলী বলেছিলেন, মাহবুবুল হক চিশতী ও তার পরিবারের সদস্যরা ক্রিমিনাল অ্যাক্টিভিটিজে (অপরাধমূলক কাজ) জড়িত।

প্রসঙ্গত, মামলার এজাহারে বলা হয়, ব্যাংকিং নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বাবুল চিশতী ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহায়তায় স্ত্রী, সন্তান ও নিজের নামে এবং নিজের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় ২৫টি হিসাব খোলেন। পরে ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকদের সহায়তায় গ্রাহকদের হিসাব থেকে পাঠানো ১৫৯ কোটি ৯৫ লাখ ৪৯ হাজার ৬৪২ টাকা ঐ ২৫টি হিসাবে স্থানান্তর করেন। এসব টাকা নিজেদের হিসাবে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও লেয়ারিংয়ের পাশাপাশি নিজেদের নামে কেনা শেয়ারের দাম পরিশোধ করেন। লেনদেনের একটি বড় অংশই হয়েছে গুলশান শাখা থেকে। ২০১৩ সালের নভেম্বর মাস থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত বকশীগঞ্জ জুট স্পিনার্সের চলতি হিসাবে গুলশান শাখায় প্রায় ১৩৯ কোটি টাকা জমা হয়। এর পুরোটাই নগদে তুলে নেওয়া হয়। বাকি ২১ কোটি টাকা বিভিন্ন হিসাব থেকে লেনদেন হয়।