এবার আলাপনকে কেন্দ্রীয় সরকারের শোকজ

আপডেট : ০১ জুন ২০২১, ২১:৫২

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যসচিব এবং বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী মমতার মুখ্য উপদেষ্টা আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে এবার শোকজ নোটিশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তার বিরুদ্ধে ভারতের বিপর্যয় মোকাবিলা আইনের (২০০৫) ৫১ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ করা হয়েছে। ঐ আইন লঙ্ঘন করার জন্য কেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা তিন দিনের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে হবে।

আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে শোকজ করে চিঠি দিয়েছেন সরকারের আন্ডার সেক্রেটারি আশিস কুমার সিং। এ নিয়ে আলাপন কোনো মন্তব্য করেননি। তবে নবান্ন সূত্র জানায়, নির্ধারিত সময়েই তিনি উত্তর দেবেন। কেন্দ্রীয় সরকারের চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের প্রধান। গত শুক্রবার তার ডাকা বৈঠকে উপস্থিত না থেকে আলাপন যা করেছেন, তা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বিপর্যয় মোকাবিলা আইনের ৫১(বি) ধারা ভঙ্গের শামিল।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ বিধ্বস্ত পরিস্থিতি দেখার পর কলাইকুন্ডায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ১৫ মিনিট পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রতিনিধিদের জন্য অপেক্ষা করেছিলেন। এরপর মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে আলাপন এলেও তার সঙ্গেই বের হয়ে যান। প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে যোগ দেননি। এতে আলাপন আইন ভেঙেছেন।

প্রসঙ্গত, সেদিন রাতেই আলাপনকে চিঠি পাঠিয়ে দিল্লিতে কাজে যোগ দিতে বলা হয়েছিল। যা নিয়ে কয়েক দিন ধরে বিতর্ক চলে। সূত্র বলছে, আলাপনের চাকরির মেয়াদ তিন মাস বাড়িয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কিন্তু তিনি মেয়াদ না বাড়িয়ে অবসরে চলে যাওয়ায় এই লড়াইয়ের প্রথম রাউন্ডে মমতা জিতেছিলেন। শোকজের দ্বিতীয় রাউন্ডে কে যেতেন? সেটাই এখন দেখার।

এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মমতা ব্যানার্জির নির্ধারিত বৈঠকের আগের রাতে জরুরি বিষয়ে আলোচনার জন্য পশ্চিমবঙ্গের গভর্নর জগদীপ ধনকড়কে মোবাইলে এসএমএস করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। পরে ফোনে তাদের মধ্যে কথাও হয়। সোমবার জগদীপ ধনকড় সেই বার্তা টুইটে প্রকাশ করেছেন। এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে গভর্নরের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার চিন্তা-ভাবনা করছে তৃণমূল কংগ্রেস।

গভর্নর ধনকড় টুইটে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কলাইকুন্ডায় ডাকা ‘ইয়াস’ নিয়ে প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের এমএলএ শুভেন্দু অধিকারী হাজির থাকলে মমতা হাজির থাকতে পারবেন না বলে আগের রাতেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। টুইটের শেষ অংশে তিনি বলেন, অহং জিতল, হেরে গেল নাগরিক পরিষেবা।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সূত্র জানায়, প্রশাসনিক প্রধানদের মধ্যে এরকম বার্তা বিনিময় চলতেই থাকে। কিন্তু সেই বার্তা জনসমক্ষে আনা অসৌজন্যতা। এরকম চললে গভর্নরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা যাবে কি না, তা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে।