করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে ঘোষিত লকডাউন উপেক্ষা করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নওগাঁর নিয়ামতপুর হয়ে ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতির সময় ১২ জনকে আটক করে স্থানীয়রা। পরে তাদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সোমবার রাতে নিয়ামতপুর উপজেলার পাড়ইল ইউনিয়নের পৈলানপুর গ্রামের মোড়ে তাদের আটক করা হয়। এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৬৭ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের ৩৭ জনই চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সীমান্ত ঘেঁষা উপজেলা নিয়ামতপুরের বাসিন্দা।
জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে সিএনজিযোগে পৈলানপুর গ্রামের মোড়ে সোমবার সন্ধ্যায় এসে একত্রিত হন। এরপর বাসযোগে (আরপি কোচ) রাত ১০টার দিকে ঢাকা যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় জনসাধারণের বাধার মুখে বাসচালক তাদের রেখে চলে যান।
স্থানীয় পাড়ইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ মুজিব জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সঙ্গে লাগোয়া নিয়ামতপুর। প্রতিদিনই এ রাস্তা দিয়ে শত শত মানুষ চলাচল করে থাকেন। আর এ সুযোগ নিয়ে এর আগেও কয়েক বার চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা থেকে নিয়ামতপুর হয়ে গোপনে ঢাকায় গেছেন অনেকে। তবে গত রাতে ঘটনাটি জানতে পেরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানার অফিসার ইনচার্জকে মোবাইল ফোনে জানালে তাত্ক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। এসআই ইউনুস আলীর নেতৃত্বে পুলিশ এসে তাদের মৌখিক মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়া মারীয়া পেরেরা জানান, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে লকডাউন উপেক্ষা করে বাসসহ বিভিন্ন উপায়ে ঢাকা যাচ্ছেন অসাধু ব্যক্তিরা—এমন সংবাদের ভিত্তিতে স্থানীয় জনগণ ঢাকাগামী ১২ জন যাত্রীকে আটক করেন। পরে তাদের মৌখিক মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। তিনি আরো জানান, করোনা সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ-নিয়ামতপুর উপজেলার সীমান্তের হাটগুলো ইতিমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে বন্ধ করা হয়েছে। এছাড়াও উপজেলার শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নের শ্রীমন্তপুর মধ্যপাড়ায় করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সেখানে লকডাউন দেওয়া আছে।
নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. এ বি এম আবু হানিফ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে জেলায় তিন জন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে নিয়ামতপুরের এক জন।
