মহামারির বিরুদ্ধে প্রস্তুতি আরো দৃঢ় করতে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তির জন্য এ বছরই আলোচনা শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়াসুস। সোমবার ডব্লিউএইচওর বার্ষিক মন্ত্রিপরিষদ সম্মেলনে সংস্থাটির মহাপরিচালক বলেন, বর্তমানে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থাকে কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে ‘গুরুতর চ্যালেঞ্জ’ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এ ধরনের সংকট মোকাবিলায় নমনীয় এবং টেকসই তহবিল প্রয়োজন। রয়টার্স
আন্তর্জাতিক মহামারি চুক্তির বিষয়ে আলোচনা শুরু করার প্রয়োজন কি না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আগামী ২৯ নভেম্বর ডব্লিউএইচওর ১৯৪ সদস্য দেশের মন্ত্রীরা বৈঠকে বসবেন বলেও এদিন সিদ্ধান্ত হয়। গত এক সপ্তাহ ধরে মন্ত্রিপরিষদের সম্মেলন চলছে। সোমবার সম্মেলনের শেষ দিন ছিল। এদিন স্বাস্থ্যমন্ত্রীরা নতুন নতুন ভাইরাস দমনে বিভিন্ন দেশ এবং ডব্লিউএইচও উভয়ের সক্ষমতা বাড়াতে স্বাধীন গবেষকদের দ্বারা আরো বেশি উচ্চাকাঙ্ক্ষী গবেষণার প্রয়োজনের বিষয়ে একমত হন। তেদ্রোস বলেন, ‘আমার বিশ্বাস এই একটি সুপারিশ ডব্লিউএইচও এবং বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা উভয়কে আরো বেশি শক্তিশালী করতে সব থেকে বেশি কাজ করবে। সেই সুপারিশ হলো, মহামারি মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি। ‘এটা এমন একটি পরিকল্পনা যেটা নিয়ে সামনে অগ্রসর হওয়ার সময় এসে গেছে।’ যদিও এ ধরনের কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তিতে পৌঁছাতে হলে লম্বা পথ পাড়ি দিতে হবে সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
বিশ্বের প্রথম গণস্বাস্থ্যবিষয়ক চুক্তি হচ্ছে ডব্লিউএইচওর ‘ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোবাকো কন্ট্রোল’। ২০০৩ সালে এই চুক্তিতে উপনীত হওয়ার আগে দীর্ঘ চার বছর ধরে এটি নিয়ে আলোচনা চলে। কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় যথাসময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে না পারার ফলে আজ পুরো বিশ্বকে ভুগতে হচ্ছে। এই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে না পারার দায় ডব্লিউএইচওর ঘাড়েই সবচেয়ে বেশি।
ইত্তেফাক/টিএ
