বিজ্ঞাপন, নাটক ও চলচ্চিত্রে নিয়মিত কাজ করছেন সাঈদ বাবু। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি নাটক ও দুটি সিনেমার কাজ শেষ করলেন। হাতে রয়েছে একাধিক নাটকের কাজ। নিজের বর্তমান কাজ ও ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল
বর্তমান কাজ প্রসঙ্গে জানতে চাই—
অনিমেষ দা’র একটি নাটক করছি, আরেকটির কাজের কথা চলছে। মাহমুদ দিদার ও অঞ্জন আইচের দুটি নাটকে কাজ করছি ওটিটির জন্য। এছাড়া সাব্বিরের ‘বাপ বেটার লড়াই’-এর সিক্যুয়েলে কাজের কথা চলছে। পাশাপাশি ‘দামাল’ ও ‘নন্দিনী’ শিরোনামের দুটি ছবির কাজ শেষ করলাম।
আপনি বিজ্ঞাপন, নাটক ও চলচ্চিত্রে সমানতালে কাজ করছেন। সব মাধ্যমে বিচরণ কী ক্যারিয়ারের প্রয়োজনে?
না, বিষয়টি আসলে তেমন না। এখানে ক্যারিয়ার সংকটের কিছু নেই। এখন তো অনেক ভালো শিল্পীর হাতেও কাজ নেই। বর্তমানে ভিউ-ফলোয়ার্স নামের একটা ‘অশ্লীলতার যুগ চলছে। ভিউ হলেই তাকে প্রমোট করা হচ্ছে। কিন্তু আমি এই ধারার বাইরে থাকতে চেষ্টা করি। ওটিটিতে নিজেকে মেলে ধরার অনেক সুযোগ রয়েছে। আর চলচ্চিত্রে আমি খল চরিত্রে নিজেকে তুলে ধরতে চাই। বলতে পারেন, আমি নাটক, সিনেমা ও বিজ্ঞাপন, সব মাধ্যমেই কাজ করতে চাই।
ভিউ গুণে স্টার ও নাটকের মান নির্ধারণের যে চর্চার চলছে, সেটাকে কীভাবে দেখছেন?
ধরেন, রাস্তার একজন পাগল একটি কাজ করলো সেটা কেউ পোস্ট করলো এবং ভিউ হলো। ঘোষণা দিলেন ১ ঘণ্টায় ১ মিলিয়ন ভিউ। সাথে সাথে অন্যরা তাকে নিয়ে কাজ করতে শুরু করলো। এই চর্চার জন্য ভালো শিল্পীর একটা সংকট তৈরি হচ্ছে। এখন কেউ বলে না এই নাটকটির গল্প ভালো, অভিনয় ভালো বা নির্মাণ ভালো হয়েছে। তবে আশা করি শিগগিরই এই ‘নোংরা’ চর্চা শেষ হবে।
শুধু ঈদের সময় নয়, প্রতিনিয়তই অসংখ্য নাটক নির্মাণ ও প্রচার হচ্ছে। কিন্তু সেভাবে জনপ্রিয় হচ্ছে না। এ নিয়ে কী মন্তব্য করবেন?
নাটক জনপ্রিয় হবে কী করে! নাটক নির্মাণের আগেই যদি প্রযোজক বা টিভি চ্যানেল ঠিক করে দেয় অমুকের সিডিউল নিয়ে আসেন তাহলে ২০টি নাটকের কাজ পাবেন। তখনই তো পরিচালক সত্তা মরে যায়। তারপর পরিচালক সেই শিল্পীর শুটিংস্পটে ধরণা দিয়ে বসে থেকে সিডিউল নেন ৪ ঘণ্টার জন্য। এই কম সময়ে একটি ভালো কাজ হবে কী করে! তখন তো নিজের চিন্তাধারার বাইরে চলে গিয়ে পরিচালক কারো চাহিদা পূরণে ব্যস্ত থাকেন।
তাহলে কী বলতে চাচ্ছেন, বাণিজ্যক বা কর্পোরেট জগতের মানুষের হাতে নাটক-চলচ্চিত্র চলে যাওয়ায় মানহীন কাজ বেশি হচ্ছে?
অবশ্যই, বাংলাদেশের নাটক শেষ করে দিয়েছে টিভি চ্যানেল, বাংলাদেশের নাটক শেষ করে দিয়েছে দর্শকরা। দর্শকরা একটা কিছু নিয়ে মাতামাতি শুরু করলে টিভিগুলো দেখে ও রে বাবা! এটা নিয়ে এত মাতামাতি করছে দর্শকরা তাহলে একে নিয়ে কাজ করলে ভিউ হবেই! সে নাটক বা সিনেমার মানুষ কি-না তো দেখে না। আগে নাটকে গল্প ছিল, চরিত্র অনুযায়ী কাস্ট করা হতো, ডিরেকশন ছিল। তারপরও কিছু পরিচালকের জন্য কিছু ভালো কাজ হচ্ছে।
ভিউগোনা স্টার বা পরিচালকরা নিজেস্ব ঘরানার বাইরে কাজ করতে চান না। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
আমি বিশ্বাস করি, আমি একজন শিল্পী হিসেবে সবার সঙ্গে কাজ করবো। কারণ আমি ভালো শিল্পী এবং স্বাধীন। কিন্তু যারা নিজেস্ব ঘরানায় আবদ্ধ থাকেন তারা আসলে একটা জায়গায় বাঁধা। কারণ তারা জানে সব জায়গায় সে অভিনয় করতে পারবে না।
ওয়েব সিরিজ ও নাটকের নেতিবাচক আলোচনা নিয়ে কী বলবেন?
যাদের শুরু গলদ দিয়ে হয় তারা টেকে না। যারা মনে করতো ওটিটি মানেই নোংরামি থাকবে, বাজে কিছু দিয়ে শুরু করতে হবে তারা কিন্তু ঝরে গেছে। আমরা যখন বাইরের কাজ দেখছি, তখন তাদের উপস্থাপন ভঙ্গি দেখে কিন্তু সেটাকে খারাপ বলছি না। উপস্থাপনটা এখানে বিশেষ প্রভাব ফেলে। আমি অনুরোধ করবো এই মাধ্যমটিতে ভালো কাজের সুযোগ রয়েছে। কম টাকায় মানহীন কাজ করে জায়গাটা যেন কেউ নষ্ট না করেন।
আপনাকে গল্প নির্ভর চলচ্চিত্রের বাইরে দেখা না যাওয়ার কারণ এবং চলচ্চিত্রের বর্তমান অবস্থা নিয়ে কী বলবেন?
এখন তো এফডিসি নির্ভর চলচ্চিত্রের বাইরে অনেক ভালো ভালো গল্প নির্ভর কাজই হচ্ছে। অনেক মেধাবী শিল্পী-নির্মাতা চলচ্চিত্রে কাজ করছেন। ভালো গল্পে, ভালো নির্মিত হচ্ছে। আশা করছি, শিগগিরই চলচ্চিত্র আরো ভালো অবস্থানে যাবে।
