শাকসবজি, ফলমূল, ডিম, মাছ-মাংস থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় প্রায় অধিকাংশ খাবারেই ভেজাল আর ক্ষতিকর রাসায়নিকে সয়লাব। অসাধু চক্রের অধিক মুনাফা ও অর্থলিপ্সার কারণে খাবারে মেশানো হচ্ছে বিষাক্ত রাসায়নিক, যা খাবারের গুণাগুণ নষ্ট করে একে রূপান্তর করছে বিষে। বর্তমানে ফলমূল বেশিদিন তরতাজা দেখানো, ঔজ্জ্বলতা বৃদ্ধি, দ্রুত পাকানো, দীর্ঘদিন সংরক্ষণ ইত্যাদির জন্য ব্যবহার হচ্ছে সোডিয়াম কার্বাইড, ইথিলিন, ইথোপেন, সানক্রেস্ট ও মেটালিন ইয়েলোরর মতো ক্ষতিকারক রাসায়নিক। ফলের জুসে স্বাদ, গন্ধ, অম্লতা বাড়াতে মেশানো হচ্ছে সোডিয়াম সাইক্লোমেট, টেক্সটাইল রং, ফসফরিক অ্যাসিড ও বিভিন্ন ধরনের প্রিজারভেটিভ। মাছ-মাংসে পচন রোধে ফরমালিন। মসলাজাত দ্রব্যের গুড়োতে ব্যবহূত হচ্ছে কৃত্রিম রং, ক্রোমাইটেড, সাইপারমেথরিন ও ডায়াজিনম—মারাত্মক সব রাসায়নিক। বেকারির পণ্য থেকে শুরু করে মিষ্টিজাত ভিন্ন দ্রব্যে স্বাদের আড়ালে লুকানো থাকছে ক্ষতিকারক টেক্সটাইল রং, গুটামেটসহ নানা রাসায়নিকের সংমিশ্রণ। ফুটপাত থেকে শুরু করে অনেক নামিদামি হোটেল-রেস্টুরেন্টেও ব্যবহার করা হচ্ছে বাসি তেলসহ নানা ধরনের অস্বাস্থ্যকর উপাদান। যা মানুষের দেহে রোগ সৃষ্টির করছে। বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে—খাবারে ভেজালের ফলে বাংলাদেশে ক্যান্সার, কিডনি রোগ, হাঁপানি, হূদরোগ, ফুসফুস সংক্রমণ, লিভার সিরোসিস ইত্যাদি ব্যাধি বাড়ছে। ভেজাল খাবার নীরবে ধ্বংস করে দিচ্ছে দেশ-জাতিকে। তাই ভেজালের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ভেজালবিরোধী অভিযান সর্বদা চলমান রাখাতে হবে। এ ব্যাপারে প্রভাবশালীসহ কাউকেই ছাড় দেওয়া যাবে না। জনসচেতনতা সৃষ্টিতে গণমাধ্যম ও প্রকাশনার মাধ্যমে ভেজাল পণ্য নির্ণয়ের কৌশল সম্পর্কে প্রচারণা চালানো যেতে পারে। একটি সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে হলে মানুষকে হতে হবে শারীরিক ও মানসিক ভাবে কর্মঠ এবং সুস্বাস্থ্যের অধিকারী। যার জন্য সবার আগে প্রয়োজন নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের নিশ্চয়তা।
মুহাম্মদ আবু হানিফ
শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম কলেজ
