দেশের ভারতীয় সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। সারা দেশে গত এক দিনে আরো ১ হাজার ৯৮৮ জনের মধ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। দৈনিক শনাক্ত রোগীর এই সংখ্যা গত এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে গত ৩০ এপ্রিল ২ হাজার ১৭৭ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ার খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল বুধবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্তদের নিয়ে দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৮ লাখ ৪ হাজার ২৯৩ জন হয়েছে। এদিকে গত এক দিনে করোনায় মারা গেছেন ৩৪ জন। মৃতের মোট সংখ্যা ১২ হাজার ৬৯৪। সরকারি হিসাবে আক্রান্তদের মধ্যে এক দিনে আরো ১ হাজার ৯১৪ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তাদের নিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন ৭ লাখ ৪৪ হাজার ৬৫ জন।
করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে নওগাঁ পৌরসভা ও নিয়ামতপুর উপজেলায় সাত দিনের সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এর আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জে যে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছিল, তা-ও আরো এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া খুলনা মহানগরীর তিনটি থানায় সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার কারণে স্থানীয় প্রশাসন ‘কঠোর বিধিনিষেধ’ আরোপ করেছে। এদিকে বাংলাদেশের কোভিড-১৯ প্রতিরোধে সীমান্তবর্তী জেলা ও উচ্চ-সংক্রমিত এলাকায় অঞ্চলভিত্তিক সম্পূর্ণ লকডাউন দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে করোনা মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শ কমিটি। সেখানে জরুরি সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা ছাড়া সবাইকে বাড়িতে থাকার আদেশ দিতে হবে। আন্তঃজেলা গণপরিবহন বন্ধ করা থেকে শুরু করে কঠোর নজরদারি, টহলের পরিমাণ বাড়ানো এবং তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে ক্ষমতা দেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে পরামর্শক কমিটির বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পরামর্শক কমিটির বৈঠকে আলোচনায় উঠে এসেছে যে, সীমান্তবর্তী জেলা, বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, রাজশাহী, নওগাঁ, সাতক্ষীরা, যশোর, খুলনা ও বাগেরহাটে কোভিড-১৯ পরিস্থিতির সবচেয়ে বেশি অবনতি ঘটেছে। সেখানে সংক্রমণের উচ্চহার দেখা গেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, কমিউনিটি পর্যায়ে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি পাওয়া যাওয়ায় বড় আকারে সংক্রমণ হলে চিকিত্সাব্যবস্থার জন্য বড় রকমের চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। যেমন অনেক উন্নত দেশে দেখা গেছে। পাশের দেশ ভারত এখন এরকম চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
