ব্রিটিশ ভোগ ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদকন্যা মালালা

আপডেট : ০২ জুন ২০২১, ২২:০২

বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মালালা ইউসুফজাই এবার ব্রিটিশ ভোগ ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদকন্যা হয়েছেন। নারী শিক্ষা আন্দোলনের এই কর্মীকে ভোগ ম্যাগাজিনের জুলাই মাসের প্রচ্ছদকন্যা হিসেবে দেখা যাবে। গত বছর অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ডিগ্রি লাভ করেন মালালা। খবর ডন ও দ্য হিন্দুস্তান টাইমসের

২৩ বছরের মালালা ব্যক্তি জীবন-বিশ্বাস, লেখাপড়া, টুইটারে সক্রিয়তা ও অ্যাপল টিভি প্লাসের সঙ্গে প্রযোজক হিসেবে অংশীদারিসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন এই লাইফস্টাইল সাময়িকীটির সঙ্গে। ম্যাগাজিনটিতে পরিবেশ আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থানবার্গ ও এমা গনজালেসের মতো কিশোরী সংগঠকদের সঙ্গে বন্ধুত্ব নিয়ে মালালা বলেন, একজন কিশোরীর হূদয় যে শক্তি বহন করে তার সম্পর্কে আমি জানি। ভোগের জুলাই সংখ্যায় প্রধান মুখ মালালা সম্পর্ক কথা বলেছেন বিশ্বের কয়েক জন শীর্ষ ব্যক্তিত্ব, যেমন : সাবেক মার্কিন ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা ও অ্যাপলের সিইও টিম কুক। ম্যাগাজিনের জন্য মালালার ছবি তুলেছেন নিক নাইট।

একদম নিখাদ পাকিস্তানি কন্যার সাজেই পাওয়া গেল মালালাকে। পরনে সালোয়ার কামিজ, মাথা ওড়না দিয়ে ঢাকা। কিছুতেই নিজের শিকড়ের টান ভোলেননি অক্সফোর্ডের এই কীর্তি ছাত্রী। ম্যাগাজিনের সম্পাদক এডওয়ার্ড মালালার এই ফটোশ্যুটের ঝলক প্রকাশ্যে এনে জানান, আমি যাদের মন থেকে অনুসরণ করে চলি, সেই তালিকায় একদম ওপরে মালালা ইউসুফজাই।

প্রচ্ছদে স্টেলা ম্যাককার্টিনির নকশা করা উজ্জ্বল লাল পোশাক ও ওড়না পরেছেন তিনি। এছাড়া অন্য ছবিতে লাল পোশাক ও লিনেন ট্রাউজারে সেজেছেন। নকশা করেছেন উরুগুয়ের গ্যাব্রিয়েলা হেয়াস্ট। সঙ্গে আছে নীল ওড়না। সাক্ষাত্কারে ওড়নাকে ‘পাখতুনদের সাংস্কৃতিক চিহ্ন’ বলে উল্লেখ করেন মালালা। ইনস্টাগ্রামে ভোগের প্রচ্ছদ পোস্ট করে খুবই ‘উচ্ছ্বসিত ও সম্মানিত’বোধ করেছেন বলেও জানান মালালা। তিনি আশা করেন, প্রচ্ছদে তাকে দেখে মেয়েরা জানতে পারবে তারাও জগত বদলাতে পারে।

মালালা বলেছেন, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় প্রতিটি মুহূর্তকে তিনি উপভোগ করেছেন। কখনো তিনি ম্যাকডোনাল্ডে গেছেন কিংবা পোকার খেলেছেন। কলেজজীবনে বেশকিছুটা সময় নিজের মতো কাটিয়েছেন জানিয়ে মালালা বলেন, বাকিংহাম স্কুলে পড়াশোনার সময় খ্যাতি তার বড় বিড়ম্বনা ছিল। তিনি বলেছেন, লোকজন আমাকে দেখলেই জানতে চাইতেন এমা ওয়াটসন, অ্যাঞ্জেলিনা জোলি অথবা বারাক ওবামার সঙ্গে সাক্ষাতের মুহূর্তগুলো কেমন ছিল। মালালা আরো বলেন, আমি ভেবে পাই না কী বলব, বিশ্রী এক ব্যাপার। কারণ স্কুলের বাইরে আমাকে অনেকে ছাত্রী বা বন্ধু হিসেবে দেখে থাকে। আমি সবাইকে একটা কথাই বলতে চাই, প্রত্যেকের সংস্কৃতির মধ্যে থেকেও নিজস্ব কণ্ঠস্বর প্রকাশ করতে পারলে তবেই বৈষম্যহীন পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব। অক্সফোর্ড থেকে দর্শন, অর্থনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে ডিগ্রি অর্জন করেছেন মালালা। ২০১২ সালে চোখ রাঙানিকে পাত্তা না দিয়ে নারী শিক্ষার প্রচার চালানোয় ১২ বছরের কিশোরীকে মাথায় গুলি করেছিল তালেবান। তবে ভাগ্যের জোরে তিনি বেঁচে যান। ১৭ বছরে পা রেখে সবচেয়ে কম বয়সে নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছেন মালালা।