হকি ফেডারেশনের বিদায়ি সভাপতি মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত প্রিমিয়ার হকি লিগটা শুরু করে দিয়ে যেতে পারেননি ঠিকই তবে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে টাকা এনে দিয়ে গেছেন। অনুরোধ করে গেছেন খেলাটা যেন মাঠে গড়ায়। হকির প্রতি তার ভালোবাসার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদাহরণ বহুবার দেখা গেছে। নানা বাধার কারণে কথাগুলো হয়তো মুখে প্রকাশ করতে পারেননি। বলতে পারেনি। সব সময় চেয়েছিলেন সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করবেন। খেলাটা মাঠে গড়ালে খেলোয়াড়দেরই উপকার হতো। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে ক্লাবগুলো কেন যেন পিছিয়ে যায়।
কোথায় যেন একটা টান লেগে এগিয়ে যাওয়ার দড়িটা ছিঁড়ে যায় বারবার। হকি ফেডারেশনে এখন আলোচনা হচ্ছে, ফেডারেশন চলছে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের অধীনে। অনেকেই এটা মেনে নিতে পারছেন না। নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল হক সাঈদ বিদেশে অবস্থান করায় ভারপ্রাপ্ত হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন মোহাম্মদ ইউসুফ। যারা মনে করছেন সাঈদ আর ফিরতে পারবেন না, তারা এই পদে নতুন সাধারণ সম্পাদক দেখতে চাইছেন। একটা সুরাহা করে সাধারণ সম্পাদক পদটা ভরাট করা হোক—এমন চাওয়া বেশির ভাগ ক্লাবকর্তাদের মনে মনে। প্রকাশ না করলেও হকিতে এটা এখন ওপেন সিক্রেট। যত ক্ষণ পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদক পদের বিষয়টি নিশ্চিত না হবে, তত ক্ষণ হকি লিগ মাঠে গড়ানোর জটিলতা কেটে না যাওয়ার আশঙ্কা থাকছেই।
ক্লাবগুলো ফুটবল ক্রিকেট খেলছে অথচ হকি খেলছে না কেন? এখানে সরষের ভেতরেই ভূত দেখছেন অনেকে। লিগ আয়োজনে এ পর্যন্ত বহুবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও কাজ হচ্ছে না। নতুন খবর হচ্ছে মোহামেডান আবাহনী ছাড়া বাকি সব ক্লাবই নাকি লিগ খেলত রাজি। মোহামেডান আবাহনী পিছিয়ে আছে। এই ক্লাবের কর্মকর্তা গত বুধবার হকির সভায় জানিয়েছেন তারা লিগ আয়োজনের জন কাজ করছেন। বিশেষ করে ঊষার রশিদ সিকদার জানিয়েছেন খেলা হবে। হকির কর্মকর্তা ফয়সাল আহসান উল্লাহ জানিয়েছেন, প্রধনামন্ত্রী টাকা পাঠিয়েছেন তাহলে লিগ হবে না কেন। যেখানে একটা সরকার প্রধান বলে দিচ্ছেন খেলা আয়োজনের জন্য, সেখানে তো আর কোনো বাধাই থাকতে পারে না। যে কোনো মূল্যে খেলা হতে হবে। প্রয়োজনে যিনি খেলবেন তাকে ছাড়াই লিগ হতে হবে। শক্ত হাতে যদি সংগঠন না পরিচালনা করা হয়, তাহলে সেই সংগঠনের কার্যক্রম ভেঙে তলিয়ে যাবে।
