পাথর উত্তোলন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকার সরকারি নির্দেশ থাকলেও সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে রাতের আঁধারে এক শ্রেণির মানুষ বোমা মেশিন লাগিয়ে পাথর উত্তোলন করছে। এতে পরিবেশ বিপর্যয়সহ কোনো কোনো স্থানে নদীভাঙন ত্বরান্বিত হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, লোভাছড়া পাথর কোয়ারির মারাত্মক ভাঙনকবলিত তেরহালী নামক স্থানে গত কয়েক দিন ধরে বোমা মেশিন দিয়ে প্রতি রাতে হাজার হাজার ঘন ফুট পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। তিন-চার দিন পূর্বে আমরি খালের পাশে কোয়ারির লোভা নদী থেকে রাতের বেলা বোমা মেশিন দিয়ে কয়েক জন ব্যবসায়ী অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন শুরু করলে স্থানীয়রা তাদের বাধা দেয়। এরপরও বোমা মেশিন দিয়েই তারা পাথর উত্তোলন করে যাচ্ছে। এদিকে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার পর তেরহালী এলাকা থেকে বোমা মেশিনের সাহায্যে পাথর উত্তোলনের প্রস্তুতিকালে লোভাছড়া চা-বাগানের স্বত্বাধিকারী লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউপি চেয়ারম্যান জেমস লিও ফারগুশন নানকাসহ চা-বাগানের শ্রমিক ও আশপাশ এলাকার লোকজন সেখানে জড়ো হন। এক পর্যায়ে বিষয়টি জেনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন্ত ব্যানার্জি এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য লোভাছড়া বিজিবি ক্যাম্পে খবর দেন। থানা পুলিশকেও নির্দেশনা দেন। বিজিবি সদস্যরা দ্রুত সেখানে যায়। কাছাকাছি সময়ে পুলিশও সেখানে পৌঁছে যায়। পরে বোমা মেশিন লোভা নদীতে ফেলে রেখে পাথর উত্তোলনকারীরা পালিয়ে যায়।
স্থানীয় পাথর ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন, কোয়ারি বন্ধ থাকার পরও কীভাবে বোমা মেশিন কোয়ারিতে এলো এবং কারা বোমা মেশিন দিয়ে কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলন করতে চায়। তারা বলেন, এসব পাথর উত্তোলনকারীদের প্রশাসনের লোকজন চেনেন। কিন্তু বারবার তারা ছাড় পেয়ে যায় কীভাবে সেটাই বড় প্রশ্ন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন্ত ব্যানার্জি বলেন, লোভাছড়া পাথর কোয়ারির লিজ বন্ধ রয়েছে। বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলনের চেষ্টার সংবাদ পেয়ে তিনি দ্রুত সেখানে লোভাছড়া বিজিবি ক্যাম্পের কর্মকর্তা ও থানার ওসিকে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলেছেন। কোয়ারি থেকে কেউ বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলনের পাঁয়তারা করলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
