প্রণোদনা প্যাকেজের পরিমাণ ও আওতা বৃদ্ধির প্রস্তাব ঢাকা চেম্বারের

আপডেট : ০৩ জুন ২০২১, ২২:০০

অর্থনৈতিক ক্ষতি যথাযথভাবে নিরূপণ করে প্রণোদনা প্যাকেজের পরিমাণ ও আওতা বৃদ্ধি করার প্রস্তাব করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ঢাকা চেম্বারের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান বাজেটে রাজস্ব ঘাটতি ও অর্থায়ন একটি চ্যালেঞ্জ। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী জিডিপির এই উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে করোনা সংক্রমণ রোধ করা এবং সবার জন্য করোনা টিকা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। যদিও এটি একটি ব্যয়বহুল বাজেট, এর মাধ্যমে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যবসায়ীদের আর্থিক প্রণোদনা, সামাজিক নিরাপত্তা ব্যয় বৃদ্ধি ও জনগণকে করোনা-পরবর্তী পরিস্থিতি থেকে রক্ষায় বরাদ্দে উদ্যোগ থাকার কারণে জীবন-জীবিকার ভারসাম্য রক্ষায় এটি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট হয়েছে বলে ডিসিসিআই বিশ্বাস করে। তবে এত বড় বাজেট বাস্তবায়ন অনেকটা চ্যালেঞ্জিং হবে, তাই রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ জানাচ্ছে ঢাকা চেম্বার। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি সময়োপযোগী। তবে প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ঘোষিত সরকারি সহায়তা সহজতর উপায়ে ব্যবসায়ীদের প্রদান করা গেলে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘোষিত বাজেট সহায়ক হবে বলে ডিসিসিআই মনে করে।

ডিসিসিআই প্রেসিডেন্ট রিজওয়ান রহমান বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে মোট আয়ের মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা যা গত বছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেশি। তাই এই অতিরিক্ত রাজস্ব আহরণের জন্য করের আওতা বাড়ানো, অনাদায়ী কর আদায়, জেলা শহরের রাজস্ব আদায় বাড়ানো, স্বচ্ছতা ও কর প্রদান প্রক্রিয়ায় অটোমেশন প্রয়োজন। বেসরকারি বিনিয়োগের ধারা অব্যাহত রাখতে বিদ্যমান করদাতাদের ওপর নতুন করে করের বোঝা আরোপ না করে রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে।

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে এ অর্থবছরে লিস্টেড ও নন-লিস্টেড কোম্পানির ২.৫ শতাংশ করপোরেট করহার হ্রাস করা হয়েছে। এই ব্যবসাবান্ধব উদ্যোগের জন্য ডিসিসিআই সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছে। তবে করপোরেট করহার পর্যায়ক্রমে আরো হ্রাস করা প্রয়োজন যাতে কোভিড-পরবর্তী সময়ে ব্যবসায়ীরা টিকে থাকতে পারেন। পাশাপাশি, বাজেটে নতুন শিল্পে যেমন: হোম অ্যাপলায়েন্স, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, অটোমোবাইল, তথ্যপ্রযুক্তি কর অবকাশ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ওয়ান পারসন কোম্পানির ক্ষেত্রে করপোরেট কর হার ২৫ শতাংশ র্নিধারণ করা হয়েছে। তবে পর্যায়ক্রমে এই করহার আরো কমানোর জোর দাবি জানানো হয়েছে। তাতে করে ক্ষুদ্র ও ছোট বিনিয়োগকারীরা উত্সাহিত হবে বলে মনে করছে ঢাকা চেম্বার। এসএমইর প্রতিষ্ঠানের মূলধন যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে ১ শতাংশ কর ছাড় দেওয়া হবে। সিএমএসএমই খাতে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রথম প্রনোদনা প্যাকেজের মতো আরো বড় আকারের প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা উচিত। একই সঙ্গে এসব ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কাছে ঋণ পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজনীয় বাধাসমূহ দূর করে তা সহজীকরণ করা প্রয়োজন। সব সিএমএসএমইদের মাঝে ঋণ প্রদানের লক্ষ্যে একটি সিএমএসএমই ন্যাশনাল ডাটাবেজ প্রণয়ন ও সিএমএসএমইর সংজ্ঞা পুনঃসংজ্ঞায়ন করা দরকার।

 ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের ৭৬ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা ঋণ বাজেটের ঘাটতি ব্যয় মেটাতে আর্থিক খাতের ওপর নির্ভরতা তৈরি করবে। প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ঋণপ্রদান প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও খেলাপি ঋণ আদায়ে উদ্যোগ গ্রহণ করে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধির জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাত ব্যতীত বিকল্প অর্থ সংস্থানের জন্য শক্তিশালী পুঁজিবাজার ও বন্ড মার্কেট গঠনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।