ভারতে পাচার হওয়ার ৭৭ দিন পর কৌশলে দেশে ফিরে রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় এক কিশোরীর মানব পাচার ও পর্নোগ্রাফি আইনে করা মামলায় গ্রেফতার তিন নারী পাচারকারীকে পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন—মেহেদি হাসান, মহিউদ্দিন ও আবদুল কাদের। গতকাল বৃহস্পতিবার আসামিদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাদের ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস প্রত্যেককে পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এদিকে ভারতে গণধর্ষণের শিকার ঐ কিশোরী সম্প্রতি দেশে ফিরে গত পহেলা জুন হাতিরঝিল থানায় মামলা করেন। ঐ মামলায় তিন জনকে সাতক্ষীরা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতার তিন জনের মধ্যে মেহেদি হাসান ঐ কিশোরীসহ ১ হাজারের বেশি নারীকে ভারতে পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। অন্য দুই আসামি মহিউদ্দিন ও আবদুল কাদের মামলার বাদীসহ পাঁচ শতাধিক নারীকে দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় রাখতে সহায়তা করে। ভুক্তভোগী নারীদের মোটরসাইকেলে করে সীমান্তে পাচারকারীদের হাতে তুলে দেওয়ার কথাও স্বীকার করেন ঐ দুই ব্যক্তি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাতিরঝিল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, গ্রেফতারকৃত তিন জনের বাড়িই সাতক্ষীরা জেলায়।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, পাচারের শিকার কিশোরীর সঙ্গে ২০১৯ সালে হাতিরঝিলে মধুবাগ ব্রিজে টিকটক হূদয় বাবুর সঙ্গে পরিচয় হয়। কখনো টিকটক স্টার বানাতে চেয়ে বা ভালো বেতনের চাকরির অফার দিয়ে কিশোরীকে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করে হূদয় বাবু। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে নারায়ণগঞ্জের এডভেঞ্চার ল্যান্ড পার্কে ৭০-৮০ জনকে নিয়ে ‘টিকটক হ্যাংআউট’ এবং ২০২০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের আফরিন গার্ডেন রিসোর্টে ৭০০-৮০০ তরুণ-তরুণীকে নিয়ে পুল পার্টির আয়োজন করে হূদয় বাবু। এবছর ১৯ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়ার লালন শাহ মাজারে আয়োজিত টিকটিক হ্যাংআউটে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে আন্তর্জাতিকভাবে সক্রিয় মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য হূদয় বাবু অন্যদের সহযোগিতায় কৌশলে ঐ কিশোরীকে ভারতে পাচার করে। পাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়ার পর থেকে পালিয়ে দেশে ফেরা পর্যন্ত তার ওপর চালানো হয় লোমহর্ষক নির্যাতন।
মামলার অভিযোগে আরো জানা যায়, ভারতে পাচারের পর কিশোরীটিকে পর্যায়ক্রমে ব্যাঙ্গালুরুর আনন্দপুর এলাকার কয়েকটি বাসায় রাখা হয়। বাসাগুলোতে হাতিরঝিল এলাকার আরো কয়েক জন তরুণী ও কিশোরীর সঙ্গে দেখা হয় ঐ কিশোরীর। এদের মধ্যে সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ভিডিওর নির্যাতিত তরুণীও ছিলেন, যাদের সুপার মার্কেট, সুপার শপ বা বিউটি পার্লারে ভালো বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পাচার করা হয় বলে তিনি জানান।
