দেশি মোবাইল হ্যান্ডসেট শিল্পের বিকাশে ফিচার ফোন আমদানিতে শুল্কহার বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে। অর্থমন্ত্রী গতকাল সংসদে যে বাজেট প্রস্তাব করেছেন, তা পাশ হলে বিদেশি ফিচার ফোনের দাম বাড়বে। এই ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে এখনো ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ ফিচার ফোন ব্যবহার হয়। দেশেও উত্পাদনের সম্পূর্ণ সক্ষমতা তৈরি হয়নি। আরো অন্তত ২ বছর এই শুল্কহার না বাড়ালেই ভালো হতো। ফিচার ফোনের দাম বেড়ে গেলে দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষ যারা এটা ব্যবহার করেন তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
মোবাইল ফোন ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রুহুল আলম আল মাহবুব ইত্তেফাককে বলেন, ‘সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ করতে চায়, এ কারণে এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। আস্তে আস্তে স্মার্ট ফোনের ব্যবহার বাড়াতে হবে। দেশেও উত্পাদনের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। তবে এখন যে বিপুলসংখ্যক মানুষ ফিচার ফোন ব্যবহার করেন তারা এই সিদ্ধান্তের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। আরো দুই বছর শুল্ক না বাড়ালেই ভালো হতো।’ তবে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া শাহিদ ইত্তেফাককে বলেন, দেশীয় শিল্পের জন্য এটি ভালো উদ্যোগ। বর্তমানে ফিচার ফোনের চাহিদা যতটুকু আছে তার ৭০ ভাগ দেশে উত্পাদিত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় বলেন, সেলুলার ফোন উত্পাদন, সংযোজন ও পশ্চাত্সংযোগ শিল্পের প্রসারে এ শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে বিদ্যমান রেয়াতি সুবিধা আরো বিনিয়োগবান্ধব ও যৌক্তিকীকরণ এবং দেশীয় শিল্প রক্ষায় ফিচার ফোন আমদানিতে শুল্কহার বৃদ্ধির প্রস্তাব করছি। বিদেশি ফিচার ফোনে শুল্ক বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় উত্পাদকদের ভ্যাট ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।
ফিচার ফোন আমদানিতে বর্তমানে ৩৫ শতাংশের বেশি আমদানি শুল্ক রয়েছে। বিটিআরসির হিসাবে, চলতি বছর জানুয়ারি নাগাদ দেশে ১২টি মোবাইল ফোন কারখানা স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং এর মধ্যে প্রায় সব কারখানা উত্পাদন ও সংযোজন শুরু করেছে। মোবাইল ফোন ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে বছরে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি হ্যান্ডসেট মার্কেট রয়েছে।
তবে এই বাজেটে টেলিকম কোম্পানির ব্যাপারে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। অর্থাত্ আগে যা ছিল তাই আছে। গত কয়েক বছর ধরে সিমট্যাক্স বা মোবাইল ফোনের কলের ওপর ভ্যাট বা সারচার্জ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রবির হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স সাহেদ আলম ইত্তেফাককে বলেন, দেশের ইতিহাসের সর্ববৃহত্ বাজেট প্রদানের জন্য সরকারকে আমরা আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। প্রস্তাবিত এই বাজেট আসছে অর্থবছরে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরো বেশি বেগবান করবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে প্রস্তাবিত এই বাজেট দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে টেলিযোগাযোগ খাতের অবদানকে সর্বোচ্চ অবদানের পথকে কিছুটা হলেও সংকুচিত করবে। এরপরেও আমরা সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে পরিপূর্ণ উদ্যমে কাজ করে যেতে চাই।
