ভ্যাট ফাঁকির জরিমানা কমছে

আপডেট : ০৪ জুন ২০২১, ০০:৪০

মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ফাঁকি, ব্যর্থতা বা অনিয়মের ক্ষেত্রে আরোপিত জরিমানার পরিমাণ কমানো হচ্ছে। বাজেট প্রস্তাবনায় অর্থমন্ত্রী ভ্যাট ফাঁকি, ব্যর্থতা বা অনিয়মের ক্ষেত্রে আরোপিত জরিমানার পরিমাণ রাজস্বের দ্বিগুণের পরিবর্তে সমপরিমাণ করার প্রস্তাব করেন। অর্থাত্ এত দিন ভ্যাট ফাঁকি দেওয়া হলে দ্বিগুণ পর্যন্ত জরিমানা দিতে হতো। এখন এটি সমপরিমাণে নামিয়ে আনা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করেন, আইনে শাস্তি ও জরিমানার বিধান অতিরিক্ত কঠোর করা হলে অনেক ক্ষেত্রেই তা প্রায়োগিক জটিলতার সৃষ্টি করে এবং স্বাভাবিক ব্যাবসায়িক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হয়। সে কারণে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এ জরিমানা ও সুদের হার হ্রাস করার প্রস্তাব করেন তিনি। বাজেট বক্তৃতায় তিনি বকেয়া ভ্যাটের ওপর মাসিক সুদের হার ২ শতাংশের পরিবর্তে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন। এক্ষেত্রে বার্ষিক সুদের হার বর্তমানে বলবত্ ২৪ শতাংশের পরিবর্তে ১২ শতাংশে নির্ধারণ হবে।

এছাড়া মূল্য সংযোজন কর আদায় কার্যক্রমে তদারিক নিশ্চিতকরণ এবং রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির জন্য এসংক্রান্ত আইন ও বিধির নিম্নোক্ত সংশোধনের প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী এগুলো হলো, ক) সিগারেট ও বিড়ি খাতে ভ্যাট কর্তৃপক্ষের যথাযথ তদারকি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তামাকজাত পণ্য উত্পাদনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় নিবন্ধন প্রযোজ্য হবে না। খ) উপকরণ মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে পণ্য সরবরাহ করা হলে, সেক্ষেত্রে উপকরণ কর রেয়াত প্রাপ্য হবে না। গ) চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট ফার্ম কর্তৃক ভ্যাট কর্মকর্তাগণকে সহায়তা প্রদানের জন্য আইনে নতুন বিধান সংযোজন হবে। ঘ) ভ্যাটের নিরীক্ষা কার্যক্রমের সুবিধার্থে নিবন্ধিত লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে বার্ষিক আর্থিক বিবরণী দাখিল সংশ্লিষ্ট নতুন ধারার সন্নিবেশন হবে। ঙ) জাল বা ভুয়া বা পুনঃব্যবহূত স্ট্যাম্প বা ব্যান্ডরোল উত্পাদন, সংরক্ষণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ বা ব্যবহারকরণ বা উক্ত কর্মকাণ্ডে সহায়তা করা হলে শাস্তির বিধান আইনে স্পষ্টকরণের প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী।