২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট সম্পর্কে তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। দলগুলোর কারও মতে, প্রস্তাবিত বাজেট কল্পনাপ্রসূত। এটি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। কারও মতে, প্রস্তাবিত বাজেটে সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা-রুটি-রুজি-সহায়-সম্পদ লুটপাট করে মুষ্টিমেয় ১ শতাংশ লুটেরা ধনীদের স্বার্থ রক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আবার কোনো কোনো দল বলছে, এ বাজেট বৈষম্য বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
মনগড়া ও অবাস্তব :জি এম কাদের
জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা জি এম কাদের বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেট কল্পনাপ্রসূত, মনগড়া ও অবাস্তব। আন্দাজে করা এই বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য নয়। বাজেটে বিশাল ঘাটতি রয়েছে। তা পূরণ করতে যে ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে সেটি বাস্তবসম্মত নয়। এই বাজেট ব্যাপকভাবে সংশোধন বা রদবদল করতে হবে। জাপা চেয়ারম্যান আরো বলেন, যারা করোনাকালে কর্মহীন হয়েছেন এবং দারিদ্রসীমার নিচে চলে গেছেন তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি বা তাদের জন্য আর্থিক সহায়তার সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই এই বাজেটে। স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বেড়েছে সামান্য। এটা সাধারণভাবে বলা যায় রুটিনবৃদ্ধি, কোনো ক্রাইসিসের জন্য এই বৃদ্ধি সামান্য এবং অপ্রতুল।
এ বাজেট ৯৯ ভাগ মানুষের স্বার্থবিরোধী :সিপিবি
প্রস্তাবিত বাজেটকে ৯৯ শতাংশ মানুষের স্বার্থবিরোধী বলে আখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। সংসদে অর্থমন্ত্রীর বাজেট প্রস্তাবনার পর দলটির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম এক বিবৃতিতে উপস্থাপিত বাজেট প্রস্তাবকে গতানুগতিক, আমলাতান্ত্রিক বলেছেন। বিবৃতিতে সিপিরি নেতৃদ্বয় বলেন, করোনা মহাবিপর্যয়কালে পীড়িত মানুষকে বাঁচানোর জন্য স্বাস্থ্য খাতের প্রাধান্য পাওয়া উচিত হলেও প্রকৃত অর্থে তা করা হয়নি। বাজেটকে সাম্রাজ্যবাদ ও লুটেরা ধনিক শ্রেণির স্বার্থ রক্ষার গণবিরোধী দলিল আখ্যায়িত করে সিপিবির পক্ষ থেকে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়।
এ বাজেট বৈষম্য বৃদ্ধিতে সহায়ক :রব
জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, মানুষের কর্মসংস্থান ও দারিদ্র দূরীকরণ এবং বৈষম্য নিরসনসহ বর্তমান দুঃসময়ের প্রত্যাশা পূরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এ বাজেট সক্ষম হবে না। জিডিপির ১ শতাংশ বরাদ্দ দিয়ে বিরাজমান স্বাস্থ্য খাতের ঝুঁকি মোকাবিলা করতে পারবে না। সরকারের ৫০তম বাজেটে সামাজিক বৈষম্য নিরসনের কোনো পরিকল্পনা নেই।
মানুষের প্রত্যাশার ছায়া খুঁজে পাইনি :মান্না
প্রস্তাবিত বাজেট প্রত্যাখ্যান করে এক বিবৃতিতে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ঋণনির্ভর ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট দিয়েছে সরকার। করোনা মহামারির এই মহাসংকট মোকাবিলা করতে যে ধরনের বাজেট প্রত্যাশা করেছিলাম, তার কোনো ছায়া খুঁজে পাইনি এই গতানুগতিক ধারার বাজেটে। বরাবরের মতো উন্নয়ন বাজেটে অতিরিক্ত বরাদ্দ রেখে সামাজিক সুরক্ষার ব্যাপারে সরকারের অনীহা প্রকাশ পেয়েছে।
এ বাজেট জনপ্রত্যাশা পূরণ করবে না :এলডিপি
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির একাংশের সভাপতি আবদুল করিম আব্বাসী ও মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম এক বিবৃতিতে প্রস্তাবিত বাজেটকে জনবিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, এ বাজেট জনগনের প্রত্যাশা পূরণ করবে না। করোনা মহামারিতে মানুষের জীবন রক্ষা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে গিয়ে জীবিকার ওপর আঘাত এসেছে। অথচ বাজেটে সে বিষয়ে পরিষ্কার কোনো প্রস্তাবনা নেই।
সবকিছুই ভুয়া মনে হচ্ছে :রেজা কিবরিয়া
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও রাজনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া বলেছেন, সরকারের দেওয়া সব পরিসংখ্যান, করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা, সবাইকে টিকা দেওয়ার অঙ্গীকার এগুলো সবকিছুই ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনের মতোই ভুয়া মনে হচ্ছে।
রেজা কিবরিয়া বলেন, স্বাস্থ্য খাতে সরকার গত দুই বছরে কিছুই করতে পারেনি। একটি কোম্পানি ও একটি দেশের কাছে জিম্মি থাকায় মাত্র দুই শতাংশ মানুষ টিকা পেয়েছে। বিদেশি ঋণ জনগণের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে পরিশোধ করা হবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এ বাজেট ছকে বাঁধা গতানুগতিক :জাসদ
২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট সম্পর্কে তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার বলেছেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ও তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কার মধ্যে এ বাজেট ছকে বাঁধা গতানুগতিক। এই বাজেট দিয়ে করোনার অভিঘাতে জীবন ও জীবিকার সংকট মোকাবিলা করা এবং স্বাস্থ্য খাতের ভঙ্গুরদশা অতিক্রম করা কঠিন হবে। এই বাজেট দিয়ে নাক ভাসিয়ে বাঁচা যাবে হয়তো, কিন্তু মানুষের জন্য স্থায়ীভাবে সর্বজনীন জনস্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও খাদ্য নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা, ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করার পথ তৈরি হবে না।
