দেশের সর্ব দক্ষিণের কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর পর্যন্ত ফেরিবিহীন সড়ক যোগাযোগ চালু এখন সময়ের ব্যাপার। লেবুখালীর পায়রা নদীর উপর নির্মিত পায়রা সেতু (লেবুখালী সেতু) জুলাই মাসে যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে। এখন চলছে সৌন্দর্যবর্ধন সহ আনুষাঙ্গিক কাজ।
পায়রা নদীর উপর নির্মাণাধীন লেবুখালী সেতুটি নির্মাণের জন্য ২০১৬ সালের ১২ এপ্রিল সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সাথে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লংজিয়ান রোড এন্ড ব্রিজ কোম্পানি লিমিটেড এর সাথে চুক্তি হয়। কার্যাদেশে সেতু নির্মাণে ৩৩ মাস সময় বেঁধে দেওয়া হলেও দুই দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ২০২২ সালের ৩০জুন পর্যন্ত। তবে তার আগেই আসন্ন জুলাই মাসের মধ্যে সেতু চালু করতে তৎপরতা চালাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। অনুমোদিত নকশা অনুসারে পায়রা সেতুটি ১৪৭০ মিটার দীর্ঘ ও ১৯ দলমিক ৭৬ মিটার প্রশস্থতা নিয়ে ঐ বছরের ২৪ জুলাই কাজ শুরু হয়। এক হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত সেতুটির প্রায় ৯৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।
শুক্রবার (৪ জুন) পায়রা সেতুর নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী আবদুস সবুর। এসময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, নির্ধারিত সময়ের আগেই যান চলাচলের জন্য সেতুটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। সেতুটি এ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু। এটি বরিশাল-পটুয়াখালীকে কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্রের সাথে সরাসরি যুক্ত করবে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের আগামী অক্টোবর মাসে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও আমরা জুলাই মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য টার্গেট দিয়ে দিয়েছি। তবে আগামী জুলাই মাসের মধ্যে সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া যাবে বলে আশা করেন তিনি। দুই সিফটে কাজ করে দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। করোনাকালীন লকডাউনের মধ্যেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিরলসভাবে কাজ করে গেছে। বর্তমানে সেতুর প্রায় ৯৫ ভাগ নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। পায়রা সেতুটি হচ্ছে আধুনিক মানের ফোরলেন বিশিষ্ট সেতু।

তিনি আরও জানান, গুনগত মানের বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স। এখানে কনসালটেন্ট ও ঠিকাদার রয়েছে তারা সার্বক্ষণিক গুনগত মান বজায় রেখে কাজ করছেন। এটা সরকারের একটি মাইলফলক। সেতুটির মূল কাজ শেষ এখন এর ফিনিশিং এর কাজ চলছে এবং টোল প্লাজার কিছু ইকুইপমেন্ট বিদেশ থেকে আসছে এগুলোর কাজ শেষ হলেই সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন পায়রা সেতু প্রকল্প পরিচালক আব্দুল হালিম, বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবু হেনা মো. তারেক ইকবাল, বরিশাল সড়ক সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মিন্টু রঞ্জন দেবনাথ, পটুয়াখালী সড়ক সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মাসুদ খান, বরিশাল সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ মাহমুদ সুমন প্রমুখ।
২০০ মিটার করে দেশের দীর্ঘতম দুটি স্প্যান বসানো হয়েছে পায়রা সেতুতে। নদীর তলদেশে বসানো হয়েছে ১৩০ মিটার দীর্ঘ পাইল। যা দেশের সর্ববৃহৎ। ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পায়রা সেতুর ভিত্তি উদ্বোধন করেন।
ইত্তেফাক/এসজেড
