উপকথা

লম্বা গলার উট

আপডেট : ০৪ জুন ২০২১, ২১:২০

 

এক দুর্গম মরুভূমিতে থাকত এক উট। সে ছিল যেমন দয়ালু তেমন পরোপকারী।

একদিন এক দেবতা তার সামনে হাজির হলেন। তিনি উটকে বললেন, ‘আমি তোমার সদাচরণে সন্তুষ্ট। তুমি আমার কাছে ইচ্ছেমতো বর চাও। আমি মঞ্জুর করবো।’

উটটি খুশিতে আটখানা হয়ে দেবতার কাছে বর চাইল, তার লম্বা গলাটি যেন আরো লম্বা করে দেওয়া হয়। গলা হবে এমন লম্বা যাতে সে গাছের মগডালের পাতা এবং উঁচু খড়ের গাদার নাগাল পায়। দেবতা ‘মঞ্জুর’ বলে হাওয়ায় মিলিয়ে গেলেন। আর সঙ্গে সঙ্গে উটের লম্বা গলাটি আরো লম্বা হয়ে গেল।

অতি লম্বা গলা পেয়ে উটের আনন্দ আর ধরে না। এখন সে শরীরের মূল অংশ নাড়াচড়া না করেও অনেক উঁচুতে থাকা খাদ্য-খোরাক জোগাড় করতে পারছে। সে দিনমান খেজুরগাছের ছায়ায় বিশ্রাম নেয়। এভাবে নড়াচড়া কম করতে করতে কিছুদিনের মধ্যে সে ভারি অলস হয়ে পড়ল। অলসতার কারণে সে বন্ধুবান্ধবদের প্রয়োজনে সাহায্য-সহযোগিতাও করতে পারছিল না।

একদিন মরুভূমিতে ভীষণ ঝড় উঠল। ঝড়ের কবল থেকে সুরক্ষার জন্যে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে উটটি কিছুক্ষণ এদিক-সেদিক ছুটোছুটি করল। কিন্তু জুত্সই কোনো আশ্রয়ের সন্ধান পেল না। অবশেষে সে একটি গুহা দেখতে পেয়ে তাতে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করল। কিন্তু গুহাটিতে তার লম্বা গলাসহ দেহটি আটানোর মতো জায়গা ছিল না। কোনোমতে সে গুহায় তার গলাটি গলিয়ে দিতে সক্ষম হলো। সেই গুহায় ছিল খেকশিয়ালের বাসা। গুহার ভেতরে লম্বা মাংসপিণ্ডটি দেখে শিয়ালরা আনন্দে বলে উঠল, ‘বাহ বাহ, কী মজা! আমাদের মজার খাবার এসে গেছে। আজকে ভূরিভোজন হবে।’

ক্ষুধার্ত শিয়ালগুলো একযোগে হুমড়ি খেয়ে পড়ল এবং ধারাল দাঁত দিয়ে উটের লম্বা গলার মাংসপেশিগুলোকে ছিন্নভিন্ন করে দিল। উটটি তীব্র ব্যথায় কঁকিয়ে উঠল। সে আর্তনাদ করে বলল, ‘আমি লম্বা গলার বর চেয়ে এবং কুঁড়েমি করে চরম ভুল করেছিলাম। আমার উচিত ছিল স্বাভাবিক গলায় খাটুনি খেটে খাবার জোগাড় করা এবং অন্য পশু-বন্ধুদের উপকারে কাজ করা।’ সে অনুতাপ করে আরো বলল, ‘অধিক লোভের কারণে এ শাস্তি আমার প্রাপ্য ছিল।’

ব্যথায় কঁকাতে কঁকাতে সে মারা গেল।

প্রাচীন ভারতীয় উপকথা