বাংলাদেশে নদ-নদী আছে ১৩৫০টি। এজন্য কেউ বলেন হাজার নদীর দেশ। ছেলেবেলায় পাঠ্যবইয়ে পড়েছি পৃথিবীতে তিনভাগ জল আর একভাগ স্থল। ৯৭ শতাংশ লোনা জল, ২ শতাংশ পানের অযোগ্য আর মাত্র ১ শতাংশ হলো পানের উপযোগী। পানি ছাড়া কোনো প্রাণী এবং উদ্ভিদ বাঁচতে পারে না। তাই তো পানির অপর নাম জীবন।
আমাদের প্রাণের শহর দিনাজপুরের তিন দিক দিয়ে বয়ে গেছে তিনটি নদী। পূর্বে আত্রাই, পশ্চিমে পুনর্ভবা ও উত্তরে ঢেপা নদী। সঙ্গে আছে ঘাগরা ও গিরিজা খাল। ঘাগরা খালটি কাহারোলে শুরু হয়ে বাস টার্মিনাল হয়ে শহরের মাঝ দিয়ে পাউবো কার্যালয়ের এলাকা দিয়ে পুনর্ভবা নদীতে গিয়ে মিশেছে। গিরিজা খালটি শহরের কালীতলা থেকে শুরু হয়ে পাটুয়াপাড়া বালুয়াডাঙ্গা হয়ে কসবা এলাকা দিয়ে পুনর্ভবায় গিয়ে পড়েছে। দিনাজপুর শহরকে বন্যার পানি থেকে রক্ষার জন্য রয়েছে পূর্বদিকে চাটগাঁ থেকে কাউগা পর্যন্ত সাড়ে ১২ কিলোমিটার বাঁধ এবং পশ্চিমদিকে গোসাইপুর থেকে ঘুঘুডাঙ্গা পর্যন্ত সাড়ে ১৫ কিলোমিটার বাঁধ। দীর্ঘদিন বাঁধ দুটি সংস্কার না হওয়ায় অনেক স্থান ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। এর ফলে শহরে বন্যার পানি সহজে ঢুকে পড়তে পারে। আবার খাল দুটো পানি নিষ্কাশনের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। গভীরতা না থাকায় খালের পানি উপচে পড়ছে। আজ এককালের ঘাগরা নদী এখন নালায় পরিণত হয়েছে। শহরের সমস্ত আবর্জনা, পয়ঃনিষ্কাশনের পথ ঘাগরায়। ধীরে ধীরে বিষময় হয়ে উঠছে পরিবেশ। সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা গ্রাস করছে পুরো শহরকে। দিনাজপুরে নদ-নদী ছিল ৭৪ কিলোমিটার এবং ছোট বড় বিল রয়েছে ৭৫টি। আজ কোথাও হাঁটুজল, কোথাও জলবিহীন গর্ত, ধুধু বালুচর ধানসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ, কোথাও গোচারণ ভূমি, শিশুদের খেলাধুলা নয়তো বালু উত্তোলন নিত্যদিনের চিরচেনা দৃশ্য।
দিনাজপুর শহরের খালগুলো সচল থাকার সময়ে জলাবদ্ধতা ছিল না। বর্ষায় অতিরিক্ত পানি প্রবাহিত না হওয়ায় প্লাবিত হচ্ছে শহরের নিম্নাঞ্চলে। খাল দুটি খননের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদন-নিবেদন করে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। পৌরবাসীর প্রত্যাশা প্রশস্ত রাস্তা, আবর্জনা ফেলার ডাস্টবিন, সার্বক্ষণিক বিদ্যুত্ সুবিধা, ড্রেন নির্মাণের পাশাপাশি এগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং যানজটমুক্ত শহর। সুন্দর পরিবেশের প্রত্যাশা করলেও দেখতে পাই পুরাতন বাহাদুর বাজারে ট্রাক ও পিকআপে মালামাল লোড-আনলোডের দৃশ্য, কালীতলায় দূরপাল্লার কোচগুলোর রাস্তায় অবস্থান, ফুটপাত দখল করে শহরের যেখানে সেখানে ক্রেতা-বিক্রেতাদের পণ্য কেনাবেচা আর অটোরিকশার মিছিলে পথচারীদের যাত্রাপথ থমকে যাওয়া।
কিছুটা দেরি হলেও সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে দিনাজপুরের জেলা প্রশাসন। ঘাগরা খাল (পরবর্তী সময়ে গিরিজা খাল) পুনরুদ্ধার এবং পুনঃখনন অব্যাহত থাকুক এবং সোনালি হারানো অতীত ফিরে পাক দিনাজপুর পৌরবাসী।
দিনাজপুর
