গোপালগঞ্জে গির্জায় বোমা হামলা
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বানিয়ারচর ক্যাথলিক গির্জায় বোমা হামলার বিচার দীর্ঘ ২০ বছরেও শুরু করা সম্ভব হয়নি। এতে নিহতদের স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত বিচার দাবি করেছেন। ঐ ঘটনায় ১০ জন নিহত হন।
বোমা হামলার ঘটনায় নিহত সুমন হালদারের বাবা শুখরঞ্জন হালদার বলেন, ঐ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা ও বিস্ফোরক মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ২২ বার বদল হয়েছেন। এ কারণে সিআইডি অভিযোগ গঠন করেনি। ফলে আদালত বিচার কাজ শুরু করতে পারছে না। বিচারের জন্য আর কতকাল অপেক্ষা করব, দ্রুত বিচার চাই। তিনি জানান, ২০০১ সালের ৩ জুন বানিয়ারচর ক্যাথলিক গির্জায় সাপ্তাহিক প্রার্থনা চলাকালে বোমা হামলায় প্রার্থনারত ১০ জন নিহত হন। আহত হন অর্ধশতাধিক খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ। নিহতরা হলেন—রক্সিড জেত্রা, বিনোদ দাস, মন্মথ সিকদার, সঞ্জীবন বাড়ৈ, পিটার সাহা, অমর বিশ্বাস, সতীশ বিশ্বাস, ঝিন্টু মণ্ডল, মাইকেল মল্লিক ও সুমন হালদার।
ক্যাথলিক গির্জায় বোমা হামলায় নিহত সঞ্জীবন বাড়ৈর বাবা বিজেন্দ্র বাড়ৈ বলেন, আমরা এখন ক্লান্ত। সেই ২০০১ সাল থেকে বিচার চেয়ে আসছি, কেউ দাবি শোনে না। এই বৃদ্ধ বয়সে কষ্ট করে চলতে হচ্ছে। টাকা নেই, খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছি। এখন আর কেউ ধারও দিতে চায় না। ছেলে বেঁচে থাকলে হয়তো এত কষ্ট করতে হতো না। বোমা হামলায় ছেলেটা মারা গেল, বিচারও পেলাম না। মারা যাওয়ার আগে আমার ছেলেসহ ১০ জনের হত্যাকারীর বিচার দেখতে চাই, তাহলে মরেও শান্তি পেতাম।
ঐ ঘটনায় মুকসুদপুর থানায় গির্জার তত্কালীন ফাদার পিতাঞ্জা মিম্মো বাদী হয়ে হত্যা ও বানিয়ারচরের বাসিন্দা পিটার বৈরাগী বাদী হয়ে বিস্ফোরক আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। দুই মামলায় ৩৭ জনকে আসামি করা হয়। তদন্তের জন্য মামলা দুটি সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে। তবে দুই মামলার প্রধান আসামি হরকাতুল জেহাদ নেতা মুফতি মাও. আব্দুল হান্নান মুন্সির ফাঁসি কার্যকর হয়েছে অন্য মামলায়। মামলার সাত আসামি কারাগারে রয়েছে।
মুকসুদপুরের বানিয়ারচর গির্জার ফাদার জেরম রিংকু গোমেজ বলেন, ২০ বছর পার হলেও এ ঘটনার বিচার শুরু হয়নি। দ্রুত মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করে বিচার শুরুর দাবি জানাচ্ছি।
গোপালগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট সুভাষ চন্দ্র জয়ধর বলেন, সিআইডি তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট দিলেই বিচার শুরু হবে। ঘটনার ২০ বছর পেরিয়ে গেলেও সিআইডি এ মামলার চার্জশিট দাখিল করতে পারেনি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক মুন্সি আসাদুজ্জামান বলেন, দ্রুত মামলার তদন্ত কাজ শেষ করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করব।
