নাগেশ্বরীতে তিলখেতে জলাবদ্ধতা

আপডেট : ০৪ জুন ২০২১, ২১:৪১

নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা

গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে নাগেশ্বরীর তিলখেতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পানি দ্রুত নেমে না গেলে খেতেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে দ্বিতীয় প্রধান এ তেলবীজ ফসল। এতে বিপাকে পড়েছেন তিলচাষিরা। জানা যায়, তিলের তেলের স্বাদ ও গন্ধ সুমিষ্ট এবং পচনরোধী উঁচু মানের ভোজ্য তেল। খাদ্য হিসেবেও তিল বীজ বেশ জনপ্রিয়। বাজারে চাহিদা থাকায় লাভও বেশি হয়। ফলে চাষিরা এবারও উপজেলায় ১২ হেক্টর জমিতে এর চাষ করেছেন। নিয়মিত পরিচর্যায় আবাদ ভালো হয়েছে। আর কয়েক দিন পরে ফসল ঘরে ওঠার কথা। ঠিক এ সময়ে অতি বৃষ্টিতে খেতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। যা একদম সহ্য করতে পারে না তিলগাছ। এতে পানিতে পচে নষ্ট হচ্ছে তিলগাছ।

নারায়ণপুর ইউনিয়নের চৌদ্দঘুরি গ্রামের কৃষক রহমান মিয়া জানান, তিনি দুই বিঘা জমিতে তিল আবাদ করেছেন। আবাদের ধরন বেশ ভালো। তিল ঘরে তুলতে আরো দেড় মাস সময় লাগবে। তবে অতি বৃষ্টি এবং অকাল বন্যা হলে ক্ষতির সম্মুখীন হবে বলে জানান তিনি। কচাকটা ইউনিয়নের শৌলমারী চরাঞ্চলের কৃষক আব্দুল মালেক জানান, গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে তার তিন বিঘা তিলের খেতে পানি জমে গেছে। এরই মধ্যে কিছু গাছ মরে পচে যাচ্ছে। দ্রুত পানি নেমে না গেলে তাদের ব্যাপক ক্ষতি হবে।

কৃষি অফিস জানায়, এবার তিল চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৬ হেক্টর জমিতে। তবে চাষ হয়েছে ১২ হেক্টর জমিতে। গতবার বন্যায় তিল নষ্ট হওয়ায় এবার কৃষকরা কিছুটা আগ্রহ হারিয়েছেন। তিলের বদলে তারা ধান চাষ করেছেন। নাগেশ্বরী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার হোসেন জানান, বিঘাপ্রতি ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা ব্যয়ে তিল আবাদ করা যায়। ফলন ভালো হলে উত্পাদন খরচ বাদে প্রতি বিঘায় ২৫-৩০ হাজার টাকা লাভ করতে পারে কৃষক। বৃষ্টির পানি থেকে বাঁচাতে উঁচু জমিতে এবং বন্যার হাত থেকে বাঁচতে আগাম তিল চাষে পরামর্শ দেন তিনি।