বিশ্ব পরিবেশ দিবস আজ

আপডেট : ০৫ জুন ২০২১, ০০:১২

আজ ৫ জুন, বিশ্ব পরিবেশ দিবস। পরিবেশ-সংরক্ষণে কার্যকর ভূমিকাগ্রহণ ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাতিসংঘ প্রতি বছর দিবসটি পালন করে। এ বছর বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য ‘প্রতিবেশ পুনরুদ্ধার, হোক সবার অঙ্গীকার’। দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।              দিবসটি উদ্যাপনে নানা কর্মসূচি পালন করবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। 

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ তার বাণীতে বলেন, পরিবেশ-সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২১’ পালনের উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। মানব সভ্যতার অস্তিত্ব রক্ষায় প্রতিবেশ-সংরক্ষণ এবং অবক্ষয়িত পরিবেশ পুনরুদ্ধারের কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে কৃষি, শিল্পসহ সব ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। তবে উন্নয়নকে টেকসই করতে সব পর্যায়ে পরিবেশ-সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে আমি সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, উন্নত দেশগুলোর লাগামহীন উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা ও শিল্পায়নের কারণে বৈশ্বিক তাপমাত্রার ক্রমাগত বৃদ্ধি জলবায়ু পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিরূপ প্রতিক্রিয়ার ফলে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় সফলতার স্বীকৃতিস্বরূপ আমি জাতিসংঘ কর্তৃক ২০১৫ সালে ‘চ্যাম্পিয়ান অব দ্য আর্থ’ সম্মাননা পেয়েছি, যা আমি দেশবাসীকে উত্সর্গ করেছি।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি ঘোষিত বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণ দশকে (২০২১-২০৩০) আমরা জীববৈচিত্র্য-সংরক্ষণের ওপর মনোনিবেশ করেছি। আমরা জাতীয় সৌরশক্তি কর্মপরিকল্পনার (২০২১-২০৪১) বাস্তবায়ন শুরু করেছি। পরিবেশ-সংরক্ষণে আমাদের সরকারের সফলতার কারণে ‘পরিবেশ কূটনীতিতে’ বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের নেতৃত্ব প্রশংসিত হচ্ছে। আমরা পরিবেশ বিপর্যয়ে সংকটাপন্ন  দেশগুলোর স্বার্থ-সুরক্ষায় ‘ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম (সিভিএফ)’ এবং ‘ভালনারেবল-২০ এর অর্থমন্ত্রীদের জোট-এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। আমরা জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা তৈরি করছি। জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে টেকসই উন্নয়ন অর্জনের লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০’ বাস্তবায়ন করছি। আমরা জাতির পিতার জন্মশতবর্ষ উদ্?যাপনের অংশ হিসেবে  ইতিমধ্যেই ১ কোটি গাছের চারা রোপণ করেছি।

‘মুজিববর্ষে অঙ্গীকার করি, সোনার বাংলা সবুজ করি’ প্রতিপাদ্যে এবারের জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান-২০২১ উদ্যাপন করা হবে। আজ বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে ‘সোনালু’,‘জাম’, ‘আমড়া’ ও ‘ডুমুর’ বৃক্ষের চারটি চারা রোপণ করে জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযানের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। এ সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার এবং সচিব জিয়াউল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা উপস্থিত থাকবেন।

পরিবেশ বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন অধিদপ্তরের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সব মোবাইল ফোন অপারেটরের মাধ্যমে খুদে বার্তা প্রেরণ করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দৈনিকে ক্রোড়পত্র প্রকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থান, স্থাপনা ও সড়কে ব্যানার, ফেস্টুন স্থাপন করে পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব উপলব্ধি করে মানুষকে গাছ লাগাতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

 

 

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাবউদ্দিন এমপি এক বাণীতে বলেন, বর্তমানের উত্পাদন পদ্ধতি এবং ভোগবাদী জীবনযাপন অব্যাহত থাকলে ধরিত্রীর প্রতিবেশ-ব্যবস্থা অচিরেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। আমাদের সবাইকে তাই প্রতিবেশ-ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে এখনই এগিয়ে আসতে হবে। দেশের ও বিশ্বের বিপুল জনগোষ্ঠী বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্ম পৃথিবীর প্রতিবেশ-ব্যবস্থা সংরক্ষণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে প্রত্যাশা করছি।