রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে করোনা সংক্রমণ ও উপসর্গ নিয়ে চিকিত্সাধীন আরো ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় তাদের মৃত্যু হয়। মৃতদের মধ্যে ১০ জনের করোনা পজিটিভ, বাকি ছয় জনের করোনার উপসর্গ ছিল। রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এদের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৯ জন, রাজশাহীর পাঁচ জন ও নওগাঁর একজন।
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, মাত্র দেড় ঘণ্টার ব্যবধানে করোনা আক্রান্ত হয়ে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাত ৩টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটের নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তারা মারা যান।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভায় জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল জানান, আজ শনিবার থেকে জেলায় সাত দিনের কঠোর লকডাউন ঘোষণা করা হলো।
বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, বাগেরহাট জেলায় বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় বাগেরহাট জেলায় নতুন করে ৪৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। করোনা আক্রান্ত হয়ে মোংলা উপজেলায় দুই জনের মৃত্যু হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে করোনায় আক্রান্ত আরো ১০৯
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ও শিবগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরো ১০৯ জন আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে আরটিপিসিআর ল্যাবে ১৫১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৮০ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে ২১, শিবগঞ্জে ১৮, গোমস্তাপুরে ২৪ ও ভোলাহাটে ১৭ জন। আর র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টে ১০৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২৫ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে।
খুলনার চার থানা এলাকায় কঠোর বিধিনিষেধ
খুলনা অফিস জানায়, করোনা ভাইরাস উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় খুলনার চার থানা এলাকায় সপ্তাহব্যাপী কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ভোর থেকে এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। আগামী ১০ জুন পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ চলবে। কঠোর এ বিধিনিষেধের প্রথম দিন গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে খুলনা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে নিরাপত্তা চৌকি বসিয়েছে প্রশাসন। বিধিনিষেধের কারণে নগরীর সদর, সোনাডাঙ্গা, খালিশপুর থানা ও রূপসা উপজেলায় জরুরি সেবা ব্যতীত সব দোকানপাট, মার্কেট ও শপিংমল বন্ধ রয়েছে।
এদিকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় খুলনার ১০০ শয্যাবিশিষ্ট করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে অতিরিক্ত রোগীর চাপ বেড়েছে। রোগীর সংখ্যা এখন ধারণক্ষমতার বাইরে।
নোয়াখালী পৌরসভা ও ছয় ইউনিয়ন লকডাউন
নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, করোনা ভাইরাসের সংক্রমন বেড়ে যাওয়ায় নোয়াখালী পৌরসভা এবং সদর উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে আজ শনিবার থেকে আগামি ১১ জুন রাত ১২টা পর্যন্ত কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। গতকাল শুক্রবার বিকেলে জেলা করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ কমিটির বৈঠকে আলোচনা শেষে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান লকডাউন ঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
