মনোনয়নপ্রত্যাশী না হতে চাপ দেওয়া হচ্ছে

তিন সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে নৌকায় ফরম নিলেন ২১ জন

আপডেট : ০৪ জুন ২০২১, ২২:৩৬

আগামী ১৪ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য তিন সংসদীয় আসনের উপ-নির্বাচনে নৌকার মনোনয়নের জন্য প্রথম দিন আবেদনপত্র নিয়েছেন ২১ জন নেতা। এর মধ্যে ঢাকা-১৪ আসনে ছয় জন, কুমিল্লা-৫ আসনে আট জন এবং সিলেট-৩ আসনে সাত জন। আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান ইত্তেফাককে এ তথ্য জানান।

জানা গেছে, এই তিন আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ১৫০ জন। তবে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা কয়েক জন নেতা অন্যদের প্রার্থী না হতে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করছেন। প্রার্থী হলে ভবিষ্যতে দলের কোনো পদে তাদের রাখা হবে না বলেও হুঁশিয়ার করে দেওয়া হয়েছে।

তিন সংসদ সদস্যের মৃত্যুতে ঢাকা-১৪, কুমিল্লা-৫ ও সিলেট-৩ সংসদীয় আসন শূন্য হয়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন ৪ হাজার ২৩ জন। গড়ে প্রতিটি আসনে প্রার্থী ১৩ জনের বেশি ছিল। তবে এবার তিন উপনির্বাচনে গড়ে প্রতিটি আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ৫০ জন। ঢাকা-১৪ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এই আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ১০০ জন। ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে গত মঙ্গলবার শাহআলী থানা আওয়ামী লীগ এবং বৃহস্পতিবার মিরপুর থানা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। শাহআলী থানা আওয়ামী লীগের দুই জন নেতা ইত্তেফাককে জানান, বর্ধিত সভায় মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ এক নেতা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, মনোনয়নপ্রত্যাশী হলে ভবিষ্যতে তাদের দলের কোনো পদে রাখা হবে না। মিরপুর থানা আওয়ামী লীগের শীর্ষ এক নেতাও একই কথা বলেছেন। কুমিল্লা-৫ ও সিলেট-৩ সংসদীয় আসনেও কয়েক জন নেতা অন্যদের মনোনয়নপ্রত্যাশী না হতে বলেছেন।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গণভবনে এক অনুষ্ঠানে মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যা বেশি হওয়া প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘শত ফুল ফুটতে দিন, সেখান থেকে ভালোটাকে বেছে নেওয়া হবে।’ অর্থাত্ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যার বেশি হওয়াকে নেগেটিভ হিসেবে নেননি। গতকাল শুক্রবার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি ঢাকা-১৪, সিলেট-৩ এবং কুমিল্লা-৫ আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থিতা বিষয়ে বলেন, মনোনয়ন পেতে ইচ্ছুক প্রার্থীর সংখ্যা অনেক। কারণ বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না শুনে প্রার্থিতার দৌড়ও বেড়ে গেছে। নেত্রীর সঙ্গে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির বিষয়ে আলোচনা হয়নি। সাধারণ একটি গাইডলাইন তিনি দিয়েছেন। সেটা হলো ‘আমি ত্যাগী ও পরীক্ষিত কাউকে মনোনয়ন দেব। যারা জনগণের কাছে অধিকতর গ্রহণযোগ্য এবং দুঃসময়ে ছিলেন।’ এমন একটি ধারণা তিনি দিয়েছেন। ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, এক্ষেত্রে গোয়েন্দা রিপোর্ট থাকবে। আবার দলীয়ভাবেও রিপোর্ট নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া নেত্রীরও নিজস্ব একটি টিম দিয়ে তিনি মাঠ পর্যায়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। আশা করি, আমরা যথাযথ ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিতে পারব।

যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল ঢাকা-১৪ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র ক্রয় করেছেন। গতকাল বিকালে ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে গিয়ে তিনি এই আবেদনপত্র সংগ্রহ করেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন তিনি। এদিকে গতকাল জুমার নামাজ শেষে মিরপুরের হযরত সৈয়দ শাহ আলী বাগদাদী রহ. এর মাজার জিয়ারত করেন ঢাকা-১৪ আসনে নৌকার মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র ক্রয় করেন দারুস সালাম থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা কাজী ফরিদুল হক হ্যাপী। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ৩০ বছর ধরে এ আসনে মানুষের পাশে আছি। গত দুই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি মনোনয়ন চেয়েছিলাম। এবারও চাই। কিন্তু এ বিষয়ে সভানেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। বিষয়টি সুবিবেচনার অনুরোধ জানান তিনি।