গত আট মাস ধরে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি না হওয়ায় খুলনার উপকূলবর্তী অঞ্চলে পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। ফলে টিউবওয়েলগুলোতে পানি না ওঠায় খুলনার ৬৮টি ইউনিয়নেই খাওয়ার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। পানির তীব্র সংকটে ঐ সব ইউনিয়নের মানুষ দুর্ভোগে রয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
খুলনার দাকোপ, কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলার বেশির ভাগ ইউনিয়নে গভীর নলকূপ সফল হয় না। লবণপানি ওঠে। কয়রা দক্ষিণ বেদকাশী, উত্তর বেদকাশী, কয়রা, মহারাজপুর, মহেশ্বরীপুর ও পাইকগাছার সব কটি ইউনিয়ন, দাকোপের তিলডাঙ্গা, বানিশান্তা, পানখালী এবং বটিয়াঘাটা উপজেলার সুরখালী ও জলমা ইউনিয়নে পানির সংকট দেখা দিয়েছে। ফুলতলা ও রূপসা উপজেলার কিছু অংশেও খাওয়ার পানির সংকট চলছে। বর্তমানে জেলার ৩০ শতাংশ মানুষ খাওয়ার পানির সংকটে রয়েছে। জেলার ৭৮ হাজার গভীর নলকূপে একই সমস্যা। গত বছর ঐ সব উপজেলায় ১৮ থেকে ২২ ফুট পানির স্তর নামলেও এ বছর ক্ষেত্রবিশেষ ২৫ থেকে ২৭ ফুট নিচে পানির স্তর নেমে গেছে।
কয়রা সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবির জানান, সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় সব সময়ই খাওয়ার পানির সংকট থাকে। অগভীর নলকূপে লবণ ও আর্সেনিক শনাক্ত করা হয়েছে। ফলে এখানকার পানি নিরাপদ নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আকমল হোসেন জানান, বিভিন্ন জায়গায় পুকুর ও জলাশয় ভরাট এবং গাছ উজাড় হচ্ছে। প্রকৃতিতে বৈরীভাব চলছে সারা বছর। এছাড়া ভূগর্ভস্থ পানি প্রায় প্রতিটি বাড়িতে উত্তোলন করা হচ্ছে। ঐ পানি অনেক ক্ষেত্রে গবাদি পশুর খামার, ভবন নির্মাণ, রাস্তা নির্মাণে পাথর-খোয়া ভেজানো এবং বালু ভরাটেও ব্যবহার করা হচ্ছে। এতেও পানির অপচয় হচ্ছে এবং মাটির নিচের একটা স্তরে পানিশূন্যতা তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে কয়রা, পাইকগাছা ও দাকোপ উপজেলায় সংকট মেটানো হতো। কিন্তু চলতি মৌসুমের বড় একটি সময় বৃষ্টির দেখা নেই। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রকল্প অনেক ক্ষেত্রে অচল হয়ে পড়েছে। এছাড়া বৃষ্টি না হওয়ায় সর্বত্র পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
ইত্তেফাক/ইউবি
