ইইউর আকাশে নিষিদ্ধ হলো বেলারুশ বিমান

আপডেট : ০৫ জুন ২০২১, ২১:২৮

দেশটির আকাশসীমা এড়িয়ে চলতেও ইউরোপীয়

এয়ারলাইনসগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে সংস্থাটি

বিবিসি

ভিন্নমতাবলম্বী এক সাংবাদিককে গ্রেফতারে গতিপথ ঘুরিয়ে রায়ানএয়ারের উড়োজাহাজকে মিনস্কে নামতে বাধ্য করার ঘটনায় জোটভুক্ত ২৭ দেশের বিমানবন্দর ও আকাশসীমায় বেলারুশের বিমানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। পূর্ব ইউরোপের দেশটির আকাশসীমা এড়িয়ে চলতেও ইউরোপীয় এয়ারলাইনসগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে সংস্থাটি।

গত মাসে যাত্রীবাহী একটি উড়োজাহাজকে জোর করে মিনস্কে নামিয়ে ভিন্নমতাবলম্বী সাংবাদিক রোমান প্রোতাসেভিচকে গ্রেফতারের ঘটনায় তাত্ক্ষণিকভাবে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিল ইইউর সদস্য রাষ্ট্রগুলো। ২৭ দেশের জোটটি এরপর বেলারুশের ওপর বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞার পথেও হাঁটে। তারই অংশ হিসেবে শুক্রবার মাঝরাত (মধ্য ইউরোপীয় সময়) থেকে ইইউর আকাশসীমায় বেলারুশের বিমান নিষিদ্ধ হয়। তবে ইইউ নিষেধাজ্ঞা দিলেও জোটের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ওপরই নিজ নিজ আকাশসীমায় তা কার্যকরের ভার থাকছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিমান চলাচল নিরাপত্তা সংস্থা (ইএএসএ) তাদের এক নির্দেশনায় ইইউ এয়ারলাইনসগুলোকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বেলারুশের আকাশসীমা এড়িয়ে চলতে আহ্বান জানিয়েছে। ইএএসএর এ আহ্বানের আগেই লুফথানসা ও এয়ার ফ্রান্সের মতো বেশ কয়েকটি এয়ারলাইনস বেলারুশের ওপর দিয়ে বিমান না চালানোর ঘোষণা দিয়েছিল। তবে অনেক এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ বিমান চলাচল নিয়ে ‘রাজনীতি করায়’ ইইউর সমালোচনাও করেছে। ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের মহাপরিচালক উইলি ওয়ালশ বলেছেন, ‘বিমানের নিরাপদ চলাচলে কখনোই রাজনীতির হস্তক্ষেপ থাকা উচিত নয়। রাজনীতিবিদদেরও কখনোই তাদের রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে একে ব্যবহার করা উচিত নয়।’

বেলারুশের সঙ্গে ইইউর নতুন এই টানাপোড়েনের পেছনে আছেন ২৬ বছর বয়সি সাংবাদিক রোমান প্রোতাসেভিচ। ২৩ মে তিনি রায়ানএয়ারের একটি ফ্লাইটে গ্রিস থেকে লিথুনিয়া যাচ্ছিলেন। বোমা আতঙ্কের কথা বলে বেলারুশ ঐ ফ্লাইটটিকে মিনস্কে নামতে বাধ্য করে। কর্তৃপক্ষ পরে বিমানটির যাত্রী প্রোতাসেভিচ ও তার বান্ধবীকে গ্রেফতার করে। শুক্রবার বেলারুশের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে হাজির হয়ে প্রোতাসেভিচকে কান্নায় ভেঙে পড়তে এবং গত বছরের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ সংঘটিত করার দোষ স্বীকার করে নিতে দেখা যায়। তার পরিবারের অভিযোগ, প্রোতাসেভিচকে ‘স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করা হয়েছে’। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনও ভিন্নমতাবলম্বী এ সাংবাদিকের কবজিতে আঘাতের দাগ দেখতে পাওয়ার কথা জানিয়েছে।