সারাবিশ্বে করোনা মহামারি থেকে বাঁচতে ভ্যাকসিনের ওপরই সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন দেশে ইতিমধ্যেই ভ্যাকসিন কার্যক্রম বেশ সফলভাবেই চলছে বলা যায়। ইতিমধ্যে বিশ্বের অন্তত ১৭৬টি দেশ ও অঞ্চলে মোট ২০০ কোটির বেশি ডোজ ভ্যাকসিন বিতরণ হয়েছে। এখন পর্যন্ত পুরোপুরি ভ্যাকসিনের আওতায় আনা গেছে বৈশ্বিক জনসংখ্যার ১৩ দশমিক ২ শতাংশ মানুষকে। তবে ভ্যাকসিন প্রদানে ব্যাপক বৈষম্য রয়েছে ধনী-দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে। দরিদ্রদের তুলনায় বিশ্বের ধনী অঞ্চলগুলোতে ভ্যাকসিন কার্যক্রম অন্তত ৩০ গুণ দ্রুত চলছে। এনডিটিভি
এদিকে ফাইজারের তৈরি ভ্যাকসিন নিয়ে নতুন গবেষণা রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে। চিকিত্সাবিষয়ক সাময়িকী ল্যানসেটের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, করোনা ভাইরাসের মূল স্ট্রেনের তুলনায় করোনার ভারতীয় ধরন বা ডেলটা ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে ফাইজারের ভ্যাকসিন অনেকটাই কম কার্যকর। গবেষণায় বলা হয়েছে, যারা এই ভ্যাকসিনের একটি ডোজ পেয়েছেন বা দুটি ডোজের মধ্যে ব্যবধান দীর্ঘ তাদের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবডি কম কাজ করছে। ডেলটা ভ্যারিয়েন্টের ক্ষেত্রেই অ্যান্টিবডি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে পারে বলে মন্তব্য করেছে ল্যানসেট। ফাইজারের প্রথম ডোজের পর ৭৯ শতাংশ মানুষের দেহে মূল স্ট্রেনের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে পারে। কিন্তু বি.১.১.৭ বা আলফা ভ্যারিয়েন্টের জন্য এটাই কমে হয়ে য়ায় ৫০ শতাংশ। আর ডেলটা ভ্যারিয়েন্টের জন্য তা হয় ৩২ শতাংশ। বিটা ভ্যারিয়েন্ট বা বি.১.৩৫১-এর ক্ষেত্রে এর মাত্রা ২৫ শতাংশ। এই বিটা ভ্যারিয়েন্ট প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকায় শনাক্ত হয়েছিল।
গবেষকরা বলছেন, মানুষকে হাসপাতাল থেকে দূরে রাখতে যতটা সম্ভব ভ্যাকসিন প্রক্রিয়া দ্রুত করা প্রয়োজন। লেগেসি স্টাডির শীর্ষ ক্লিনিক্যাল রিসার্চ ফেলো এবং ইউসিএলএইচ ইনফেকশাস ডিজিজ কনসালটেন্ট এমা ওয়াল বলেছেন, এ থেকে রক্ষা পাওয়ার একটাই উপায়। দুটি ডোজের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে আনা।
