সিলেটের হাওর-নদীতে অবাধে পোনা নিধন

আপডেট : ০৫ জুন ২০২১, ২১:৩১

হুমায়ূন রশিদ চৌধূরী, সিলেট অফিস

বৃহত্তর সিলেটের হাওর, নদীসহ বিভিন্ন জলাশয়ে অবাধে নিধন করা হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা। এতে মিঠা পানিতে দেশীয় মাছ হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, বৃষ্টির মৌসুম মার্চ-এপ্রিলে পানি বাড়লে মা-মাছ ডিম ছাড়ে। তবে এবার সিলেটে সেভাবে মৌসুমি বৃষ্টি ও ঢল নামেনি। ফলে মাছের প্রজননে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। মে মাসের শেষ ও জুনের প্রথম সপ্তাহের শুরুর বৃষ্টিতে খাল-বিলে ভরাট হয়ে যায়। এতে বিভিন্ন প্রজাতির মা-মাছ ডিম ছাড়া শুরু করেছে। ফলে নদী ও হাওরে পোনা মাছের সমারোহ দেখা যাচ্ছে। কিন্তু কিছু অসাধু মত্স্যজীবী অবৈধ জাল দিয়ে পোনা মাছ ধরে তা বাজারে বিক্রয় করছে। এতে মিঠা পানিতে দেশীয় মাছ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, সিলেট বিভাগের কওয়া দিঘি, হাকালুকি, টাঙ্গুয়া, হালির হাওর, মাটিয়ান হাওরদেখার হাওর, শিনির হাওরসহ সুনামগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার পুরান লক্ষণশ্রী এলাকায় সুরমা নদীর চরে, রহমতপুর এবং হরিনাপাটি এলাকার নদীর চরে, কানলার হাওর, দেখার হাওর, শিলুয়ার হাওর, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার খরচার হাওর, আঙারুলি হাওর, ছাতিধরা, পাকনার হাওর, টগার হাওর, পাসুয়া হাওরসহ বিভিন্ন উপজেলার হাওর জলাশয়ে পোনা নিধন করা হচ্ছে। প্রতিদিন অবৈধ কোনাজাল ও কারেন্ট জাল দিয়ে এই পোনা নিধন হচ্ছে। এসব জালে ধরা হচ্ছে রুই, কাতলা, চিংড়ি, কই, মাগুর, শিং, শৌল, বোয়াল, গনিয়া, কাইলা, পুঁটি, আইড়, লাছোসহ নানা প্রজাতির মা-মাছ ও রেণু পোনা। আর এসব পোনা স্থানীয় বাজারগুলোতে দেদারছে বিক্রি হচ্ছে।

হরিনাপাটি গ্রামের আব্দুল আলীম বলেন, এবার অন্যান্য বছরের তুলনায় সুনামগঞ্জ জেলায় পোনার উত্পাদন ভালো। যদি এগুলো কঠোরভাবে রক্ষা করা যায় তা হলে সিলেটে মাছের উত্পাদন বেশি হবে। কিন্তু মা-মাছ শিকার করায় মাছের বংশ ধ্বংস হবে। হাওর ও পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাশমির রেজা বলেন, ‘আমরা আশা করছিলাম বর্তমান বাজেটে হাওর উন্নয়নে বরাদ্দ দেওয়া হবে। কিন্তু দেওয়া হয়নি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘উপকূলীয় অঞ্চলে যেভাবে মাছ ধারা মৌসুমে জেলেদের ভর্তুকি দেওয়া হয়, সেভাবে হাওর পাড়ের জেলেদের ভর্তুকি না দিলে বিশাল মিঠা পানির মাছ রক্ষা করা সম্ভব হবে না।’

সিলেট জেলা মত্স্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, এই সময় পোনা মাছ নিধন প্রতিরোধ না করলে সিলেটের মিঠা পানিতে দেশীয় মাজের বিস্তার কঠিন হয়ে পড়বে। সুনামগঞ্জ জেলা মত্স্য কর্মকর্তা সুনীল মণ্ডল শুক্রবার ইত্তেফাককে বলেন, ‘পোনা মাছ নিধন বন্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে সীমিত জনবল ও অর্থ সংকটের কারণে বিশাল হাওর এলাকা সামাল দেওয়া মুশকিল হয়ে পড়ে।’