পাটাতন ও রেলিং ভেঙে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল

আপডেট : ০৫ জুন ২০২১, ২১:৩৬

সেনবাগের সারওয়াতলী সেতু

সেনবাগ (নোয়াখালী) সংবাদদাতা

সেনবাগ উপজেলার ডমুরুয়া চৌরাস্তা-বক্সগঞ্জ বাজার (নাঙ্গলকোট) সড়কের সারওয়াতলী সেতুটির পাটাতন ও রেলিং ভেঙে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। এলজিইডির আওতায় সেনবাগ উপজেলার সঙ্গে নাঙ্গলকোট উপজেলাবাসীর যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ এ সেতুটি যানবাহন চলাচলের প্রায় অযোগ্য হয়ে পড়ায় জনসাধারণকে অনেক কষ্ট ভোগ করে হালকা ও ছোট যানবাহনে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

জানা গেছে, নাঙ্গলকোটের বক্সগঞ্জ পর্যন্ত এলজিইডির (সেনবাগ) ২ হাজার ৮৫০ মিটার দীর্ঘ ও ৩.৭ মিটার প্রস্থ এ সড়কটি সম্প্রতি মেরামত করা হলেও সেতুটি ভাঙাই রয়ে যায়। সেনবাগের মানুষের বক্সগঞ্জ বাজার হয়ে গুনবতি ও হাসানপুর রেলওয়ে স্টেশন, নাঙ্গলকোট এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রামের চিওড়া ও পদুয়া রাস্তার মাথায় যাতায়াতের একমাত্র সহজ পথ এটি। নাঙ্গলকোটের বক্সগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীদের চৌমুহনী ও ফেনী থেকে পণ্য পরিবহনের একমাত্র পথও এটি। বর্তমানে সেতুটির ওপর দিয়ে কোনোভাবে হালকা ও ছোট যানবাহন চলাচল করলেও ভারী কোনো যান চলাচল করতে পারছে না। ফলে ব্যবসায়ী ও জনসাধারণকে অধিক টাকা ও সময় ব্যয় করে অন্যপথে মালামাল পরিবহন করতে হচ্ছে। ৩ নম্বর ডমুরুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, ২০২০ সালের নভেম্বরের দিকে সেতুটির পাটাতনে ভাঙন দেখা দিলে প্রথমে মৌখিক ও পরে জানুয়ারিতে লিখিতভাবে ইউএনওকে অবহিত করা হয়। এরপর উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভায়ও বিষয়টি উপস্থাপন করা হলে জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়। সেতুটিতে ভাঙন দেখা দেওয়ার সাত মাস অতিবাহিত হলেও এ যাবত্ মেরামত করা হয়নি।

চেয়ারম্যান আরো জানান, গত পাঁচ দশকে এই গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি বেশ কয়েক বার পুনঃনির্মাণ করতে তিনি দেখেছেন। প্রতি বারই সড়কটির গুরুত্ব অনুযায়ী সেতুর নকশায় ত্রুটি ও নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল বলে তিনি মনে করছেন। সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, এরই মধ্যে সেতুটির বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরেছে, পাটাতন ও রেলিং ভেঙে গেছে। এলজিইডির সেনবাগ উপজেলা প্রকৌশলী শাহিনুর আলম জানান, বিশ্ব ব্যাংকের চলমান ‘সেফটিং ফর রুরাল ব্রিজ’ কর্মসূচির আওতায় সেতুটি আপাতত মেরামত করে হালকা-মাঝারি যান ও জনসাধারণের চলাচলের উপযোগী করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে। বিশ্ব ব্যাংকের বিশেষজ্ঞ টিম মাস খানেক আগে পুনরায় ঐ সেতুটি পরিদর্শন করায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। পরে সেতুটি যথাযথভাবে পুনঃনির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।